হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
উদ্দীপক-২: বিবেকদের বাড়িতে বর্ষাকালে যে শক্তির পূজা করা হয় তাতে উপকরণ হিসেবে ঠান্ডাজাতীয় ফল ও মিষ্টির ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া এই শক্তি অনেক সময় এক প্রকার রোগ-প্রতিরোধকারী ভেষজ উদ্ভিদের পাতাও বহন করেন।
- ক)(1)
যজমান কাকে বলে?
- খ)(2)
পূজা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপক ১-এ কোন শ্রেণির দেবতার উল্লেখ করা হয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক ২-এ উল্লেখিত শক্তির পূজার মূল উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যার নামে সংকল্প করে পূজা করা হয়, তাকে যজমান বলে।
- খ)
পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা বা শ্রদ্ধা জানানো। ঈশ্বরের প্রতীক বা তাঁর কোনো রূপকে (দেব-দেবী) সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তিসহকারে ফুল, বেলপাতা, চন্দন, আতপচাল, ধূপ, দীপ ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে যে অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে পূজা বলে।
দেব-দেবীর কাছে মাথা নত করা এবং তাঁদের সান্নিধ্য লাভের প্রয়াসই পূজার উদ্দেশ্য। - গ)
উদ্দীপক ১-এর চিত্রে সিংহবাহিনী দশভুজা দেবীর মহিষাসুর বধের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এটি দেবী দুর্গা। তাই এখানে পৌরাণিক দেবতার উল্লেখ করা হয়েছে।
হিন্দুধর্মে দেব-দেবীকে বৈদিক, পৌরাণিক ও লৌকিক- এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। পুরাণে যে সকল দেবতার বর্ণনা করা হয়েছে, তাঁদের পৌরাণিক দেবতা বলা হয়। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী। পৌরাণিক যুগে বৈদিক দেবতাদের অনেকের রূপের পরিবর্তন ঘটেছে এবং নতুন দেবতার আবির্ভাব হয়েছে। পুরাণে ধ্যানলব্ধ দেবতাদের বিগ্রহ বা প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করার বিধান আছে।
উদ্দীপকের দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক ও আদ্যাশক্তি মহামায়া। তাঁর দশ হাত, তিন চোখ এবং বাহন সিংহ। দেবতাদের সম্মিলিত তেজ থেকে আবির্ভূত হয়ে তিনি মহিষাসুরকে বধ করেছেন বলে তাঁকে মহিষমর্দিনী বলা হয়। এসব বর্ণনা পুরাণ থেকে এসেছে, তাই তিনি পৌরাণিক দেবী।
- ঘ)
উদ্দীপক ২-এ বর্ষাকালে পূজিত যে শক্তির কথা বলা হয়েছে, তিনি দেবী শীতলা। ঠান্ডাজাতীয় ফল-মিষ্টি উপকরণ এবং রোগ-প্রতিরোধকারী ভেষজ উদ্ভিদের পাতা বহন করা শীতলা দেবীর বৈশিষ্ট্য। তিনি লৌকিক দেবী। এ পূজার মূল উদ্দেশ্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী শীতলা রোগ প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দেবী। তিনি মহামারি প্রতিরোধ করেন এবং প্রাণিকুলকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করেন। গ্রামবাংলায় তিনি ঠাকুরানি নামে পরিচিত।
১. রোগমুক্তি ও রোগ প্রতিরোধ: পূজার প্রধান উদ্দেশ্য সংক্রামক রোগ ও মহামারি থেকে পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করা। বর্ষায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়, তাই এ সময় শীতলার পূজা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
২. স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা: শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দেবীও বলা হয়। পূজার মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন হয়। ভেষজ পাতা ব্যবহারও রোগ প্রতিরোধের দিকেই ইঙ্গিত করে।
৩. শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা: তিনি শান্তির দেবী। তাঁর পূজার মাধ্যমে ভক্তরা পরিবার ও সমাজে শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।
৪. সামাজিক ঐক্য: পূজা উপলক্ষে সমাজের মানুষ একত্র হয়, যা সামাজিক বন্ধন ও সহযোগিতার মনোভাব বাড়ায়।সুতরাং, শীতলা দেবীর পূজার মূল উদ্দেশ্য রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও