হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বছরের একটি দিনে কন্যা শিশুকে পুরোহিত দ্বারা ভক্তবৃন্দ পূজার্চনার মাধ্যমে সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে। অন্যদিকে, অপর্ণা রায়ের পরিবারে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি সমস্ত প্রকার রোগ-শোক থেকে পরিত্রাণের জন্য এক বিশেষ দেবীর বিগ্রহ স্থাপন করে বাড়িতে পূজা করেন।
- ক)(1)
পূজা কাকে বলে?
- খ)(2)
"একংসদ বিপ্রা বহুধা বদন্তি" কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজাটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অপর্ণা রায়ের অনুসৃত পথ দ্বারা রোগ নিরাময় সম্ভব। উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ঈশ্বরের প্রতীক বা তাঁর কোনো রূপকে (দেব-দেবী) সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তিসহকারে ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, চন্দন, ধূপ, দীপ প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে যে অর্চনা করা হয়, তাকে পূজা বলে।
- খ)
ঋগ্বেদের এ মন্ত্রের অর্থ হলো, এক, অখণ্ড ও চিরন্তন ব্রহ্মকে বিপ্র বা জ্ঞানীরা বহু নামে বর্ণনা করেছেন।
ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। দেবতারা সেই এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশ। তাই ভক্তরা ভিন্ন ভিন্ন নামে দেব-দেবীর পূজা করলেও আসলে একই ঈশ্বরের উপাসনা করেন।
- গ)
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কন্যা শিশুকে ঘিরে পূজাটি কুমারী পূজা।
কুমারী পূজার ধারণা: শারদীয় দুর্গাপূজায় মহাষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজা করা হয়। এ পূজায় একটি কুমারী বালিকাকে দেবী দুর্গারূপে কল্পনা করে পূজা করা হয়। এর মূল ভাব হলো, নারীকে মাতৃরূপে, ঈশ্বরীরূপে ভাবনা করা। কুমারীর মধ্য দিয়ে আসলে দেবী দুর্গারই পূজা করা হয়।
গুরুত্ব: কুমারী পূজায় নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষের মনে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়। ফলে পারিবারিক ও সমাজজীবনে প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে বছরের একটি দিনে কন্যা শিশুকে পুরোহিত দ্বারা ভক্তবৃন্দ পূজা-অর্চনার মাধ্যমে সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে। কন্যা শিশুকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা কুমারী পূজারই বৈশিষ্ট্য।
অতএব, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজাটি কুমারী পূজা।
- ঘ)
অপর্ণা রায় রোগ-শোক থেকে পরিত্রাণের জন্য যে বিশেষ দেবীর বিগ্রহ স্থাপন করে পূজা করেন, তিনি সম্ভবত শীতলা, যিনি রোগ নিরাময়ের দেবী হিসেবে পূজিত। ধর্মীয় বিশ্বাস ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বলা যায়, তাঁর অনুসৃত পথে রোগমুক্তির সম্ভাবনা আছে, তবে এর সঙ্গে সুচিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতা জরুরি।
শীতলা দেবী ও পূজার ধারণা: শীতলা লৌকিক দেবী, গ্রামবাংলায় তিনি ঠাকুরানি নামে পরিচিত এবং শান্তির দেবী হিসেবে সুপরিচিত। বসন্ত, কলেরা প্রভৃতি রোগের প্রাদুর্ভাবে মানুষ তাঁর পূজা করে। পূজার মাধ্যমে ভক্ত দেবতার কৃপা প্রার্থনা করেন।
১. দেবতার কৃপা ও ঈশ্বরের সন্তুষ্টি: দেবতারা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশ। পূজার মাধ্যমে দেবতারা খুশি হন, ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন এবং ভক্তের অভীষ্ট পূরণ করেন। অপর্ণা রায় ভক্তি সহকারে পূজা করে সেই কৃপা প্রার্থনা করেন।
২. মানসিক শান্তি: রোগ-শোকে বিপর্যস্ত পরিবারে পূজা-অর্চনা মনে বিশ্বাস, সাহস ও প্রশান্তি আনে। সুস্থ মন রোগ থেকে আরোগ্যলাভে সহায়ক।
৩. পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ: পূজার আয়োজনে ঘরদোর পরিষ্কার করা হয়, পরিবারের সবাই একত্র হয়। এতে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও ঐক্য বাড়ে।
৪. সতর্কতা: তবে শুধু পূজার ওপর নির্ভর না করে রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা নেওয়া উচিত, কারণ ধর্ম মানুষকে কর্তব্য পালনেও উদ্বুদ্ধ করে।
সুতরাং, অপর্ণা রায়ের ভক্তিপূর্ণ পূজা তাঁকে মানসিক শক্তি ও দেবীর কৃপা এনে দিয়ে রোগমুক্তির পথে সহায়তা করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও