সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
বিশাল বিশাল কলকারখানার মালিক জাফর সাহেব সমাজের উন্নয়নেও ভূমিকা পালন করেন। গ্রামে নিজের জমিতে তিনি বিদ্যালয় ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেছেন। এক একটি কলকারখানা থেকে তার মুনাফা দিয়ে তিনি নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করেন। গ্রামের শিক্ষিত তরুণদের তিনি চাকরি দিয়ে সহায়তা করেন। তার সাধারণ জীবনযাপন মানুষকে আকৃষ্ট করে।
- ক)(1)
রাষ্ট্রের উপাদান কয়টি?
- খ)(2)
বৈধ ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সমাজের সম্পত্তির উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রের উপাদান চারটি (নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌমত্ব)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈধ ক্ষমতা বলতে এমন ক্ষমতাকে বোঝায় যা আইন, সংবিধান বা সমাজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতি দ্বারা স্বীকৃত এবং যার পেছনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি থাকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ক্ষমতা যখন বৈধতা অর্জন করে, তখন তা 'কর্তৃত্ব' (Authority)-এ পরিণত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'পুঁজিবাদী সমাজ'-এর ব্যক্তিগত সম্পত্তির উল্লেখ করা হয়েছে।
পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদনের উপায়ের ওপর ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠা, মুনাফা অর্জনের স্বাধীনতা এবং সেই মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে পুঁজি বা সম্পত্তির সম্প্রসারণ।
উদ্দীপকের জাফর সাহেব বিশাল বিশাল কলকারখানার ব্যক্তিগত মালিক। তিনি এসব কারখানা থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে আবার নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা পুঁজিবাদী সম্পত্তির মূল ধর্ম পুঁজি পুঞ্জীভবনকে নির্দেশ করে। পুঁজিবাদে ব্যক্তি তার অর্জিত সম্পদ বা সম্পত্তি ইচ্ছামতো যেকোনো ক্ষেত্রে পরিচালনা ও ব্যবহার করতে পারে। অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত কারখানা ও ব্যবসার মালিকানা মূলত পুঁজিবাদী সমাজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ম্যাক্স ভেবারের 'প্রোটেস্ট্যান্ট নৈতিকতা ও পুঁজিবাদের চেতনা' (The Protestant Ethic and the Spirit of Capitalism)-এর গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ভেবারের মতে, আধুনিক পুঁজিবাদের বিকাশে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি দেখান যে, প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মের ক্যালভিনবাদী ধারার অনুসারীরা কঠোর পরিশ্রম, সংযমী জীবনযাপন এবং অর্জিত অর্থ অপচয় বা বিলাসিতায় ব্যয় না করে তা পুনরায় ব্যবসায় বিনিয়োগ করাকে একটি ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য মনে করত। এই কৃচ্ছ্রসাধন ও নৈতিক জীবনাচরণ পুঁজি পুঞ্জীভবনে সহায়তা করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রসার ঘটায়।
উদ্দীপকের জাফর সাহেবের কর্মকাণ্ডেও এই নৈতিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি বিশাল কলকারখানার মালিক এবং বিপুল মুনাফা অর্জন করা সত্ত্বেও সাধারণ জীবনযাপন করেন, যা ভোগবিলাস বর্জনের নৈতিকতাকে নির্দেশ করে। তিনি অর্জিত মুনাফা অপচয় না করে নতুন ব্যবসা স্থাপন করছেন, যার ফলে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে তিনি সমাজকল্যাণে বিদ্যালয় ও চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে নৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন।
সুতরাং, জাফর সাহেবের সাধারণ জীবনযাপন, মুনাফার উৎপাদনশীল পুনঃবিনিয়োগ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড মূলত প্রোটেস্ট্যান্ট নৈতিকতার আধুনিক সামাজিক রূপের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও