সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
জামাল মিয়া লাঙল দিয়ে জমি চাষ করে বলে তাকে বেশি সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ দিতে হয়। ফলে তার উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু ইংল্যান্ডে উৎপাদন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তনের ফলে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে বলে শ্রমিক কম নিয়োগ দিতে হয়। তাই তার উৎপাদন খরচ হ্রাস পায় এবং জীবনযাত্রা সহজ হয়।
- ক)(1)
COS এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
পঞ্চদৈত্য বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আমূল পরিবর্তনকে কী নামে অভিহিত করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আর্থ-সামাজিক জীবনে উক্ত ঘটনার প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
COS এর পূর্ণরূপ হলো Charity Organization Society (চ্যারিটি অর্গানাইজেশন সোসাইটি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্যার উইলিয়াম বেভারিজ ১৯৪২ সালের তাঁর ঐতিহাসিক রিপোর্টে সমাজ প্রগতির অন্তরায় হিসেবে যে পাঁচটি মৌলিক ও প্রধান সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করেন, সেগুলোকে 'পঞ্চদৈত্য' (Five Giants) বলা হয়। এই পঞ্চদৈত্যগুলো হলো—১. অভাব (Want), ২. রোগ-ব্যাধি (Disease), ৩. অজ্ঞতা (Ignorance), ৪. মলিনতা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ (Squalor) এবং ৫. অলসতা বা নিষ্ক্রিয়তা (Idleness)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আমূল পরিবর্তনকে 'শিল্পবিপ্লব' (Industrial Revolution) নামে অভিহিত করা যায়।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইংল্যান্ডে উৎপাদন পদ্ধতিতে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রপাতির ব্যাপক ব্যবহার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থায় যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে শিল্পবিপ্লব বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জামাল মিয়া যেখানে সনাতন পদ্ধতিতে লাঙল ও কায়িক শ্রম ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বেশি হয়, সেখানে ইংল্যান্ডে উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ফলে লাঙলের বদলে ট্রাক্টরের মতো যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর ফলে সময় ও শ্রমের সাশ্রয় ঘটে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। কৃষি ও সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষেত্রে হস্তচালিত ব্যবস্থার স্থলে যন্ত্রপাতির এই যুগান্তকারী পরিবর্তনকেই শিল্পবিপ্লব বলা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থ-সামাজিক জীবনে শিল্পবিপ্লবের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং বহুমাত্রিক, যার ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক রয়েছে।
ইতিবাচক প্রভাব:
১. উৎপাদন বৃদ্ধি: যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যাপক উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা উদ্বৃত্ত খাদ্য ও পণ্যের জোগান নিশ্চিত করে।
২. যোগাযোগ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: রেলওয়ে, বাষ্পীয় ইঞ্জিন ইত্যাদির ফলে যাতায়াত সহজতর হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা আরামদায়ক হয়।
৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: বাণিজ্যের বিস্তার ঘটে এবং আধুনিক ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রসার হয়।নেতিবাচক প্রভাব:
১. বেকারত্ব ও দারিদ্র্য: হস্তশিল্পের বিলুপ্তি এবং যন্ত্রনির্ভরতার কারণে বহু সনাতনী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে।
২. সামাজিক বৈষম্য ও শ্রেণিভেদ: পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে, যেখানে পুঁজিপতি ও শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে বৈষম্য তীব্র আকার ধারণ করে।
৩. সামাজিক সমস্যা: দ্রুত নগরায়ণের ফলে বস্তি সমস্যা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিবারের ভাঙন, শিশুশ্রম ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়।পরিশেষে, শিল্পবিপ্লব যেমন একদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আধুনিক সভ্যতার সূচনা করেছে, অন্যদিকে তেমনই বহু জটিল সামাজিক সমস্যার জন্ম দিয়ে আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের উদ্ভবের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও