পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

একটি রাষ্ট্র 'ক' ও 'খ' আলাদা ভূ-খণ্ড। 'ক' অংশের শাসকেরা 'খ' অংশের জনগণকে শোষণ করার হাতিয়ার হিসেবে প্রথমেই তাদের নিজস্ব বর্ণমালার উপর আঘাত হানে। যা 'খ' ভূ-খণ্ডের সর্বস্তরের মানুষকে প্রচণ্ডভাবে প্রতিবাদী করে তোলে এবং একটি সংগঠনের মাধ্যমে আন্দোলন সংগ্রাম করে ও বহু রক্তের বিনিময়ে নিজেদের বর্ণমালা প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং পরবর্তীতে এই আন্দোলনই 'খ' ভূ-খণ্ডের জনগণকে মুক্তির পথে উৎসাহিত করেছিল।

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাব কী?

    (1)
  2. খ)

    ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন আন্দোলন প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আন্দোলনের মধ্যে স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে এ কে ফজলুল হক যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাকে লাহোর প্রস্তাব বলে। এতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়।

  2. খ)

    ছয় দফায় বাঙালির স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক সামরিক নিরাপত্তার দাবি ছিল। এতে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বঞ্চনা, বৈষম্য ও শোষণ থেকে মুক্তির পথ নির্দেশ করা হয়েছিল।

    এ দাবিগুলোর ভিত্তিতেই বাঙালি জাতি সংগঠিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়। এজন্য ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলন (১৯৫২) প্রতিফলিত হয়েছে।

    উদ্দীপকে 'ক' অংশের শাসকেরা 'খ' অংশের জনগণের বর্ণমালার উপর আঘাত হানে এবং 'খ' অংশের মানুষ প্রতিবাদ করে আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা বহু রক্তের বিনিময়ে নিজেদের বর্ণমালা প্রতিষ্ঠা করে। একইভাবে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চাইলে পূর্ব বাংলার মানুষ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রফিক, শফিক, সালাম, বরকতসহ অনেকে জীবন দেন। ১৯৫৬ সালে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়। তাই উদ্দীপকের আন্দোলন ভাষা আন্দোলনের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই বাঙালির স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। এ কথার যুক্তি নিচে দেওয়া হলো:

    ১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: ভাষার ভিত্তিতে বাঙালি তার স্বতন্ত্র জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন হয়।
    ২. প্রতিবাদী চেতনা: শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতা বাঙালিকে আত্মবিশ্বাসী করে।
    ৩. পরবর্তী আন্দোলনের প্রেরণা: এ আন্দোলনের চেতনাই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে অনুপ্রাণিত করে।
    ৪. ঐক্য ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত: ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকারে উদ্বুদ্ধ করে।

    সুতরাং, ভাষা আন্দোলনই ছিল পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা। তাই এ আন্দোলনের মধ্যে স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন