হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

ধ্রুব ও নীলা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে মালা বদল ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের এই বিবাহ অনুষ্ঠানে দুজন বন্ধু উপস্থিত ছিল। কিন্তু অনিল ও শুভশ্রীর বিবাহে তাদের সকল আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন। খুব ধুমধাম করে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। তাদের বাবা-মাও তাদের সঙ্গে থাকেন।

  1. ক)

    সমাবর্তন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    একজন হিন্দু নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    ধ্রুব ও নীলার বিবাহ কোন প্রকার বিবাহের অন্তর্গত? পাঠ্যের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্কারটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হয়, তাকে সমাবর্তন বলে।

  2. খ)

    বিবাহের পর স্বামী যখন স্ত্রীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন, সেটি একজন হিন্দু নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সিঁদুর বিবাহ চিহ্ন। এরপর থেকেই স্ত্রী স্বামীর জীবিত অবস্থায় সিঁথিতে সিঁদুর পরতে পারেন। এটি তাঁর নতুন জীবন, গৃহিণী হিসেবে মর্যাদা ও স্বামীর কল্যাণ কামনার প্রতীক। আমাদের দেশে অনেক স্থানে বাসি বিয়ের দিন এই অনুষ্ঠান হয়।

  3. গ)

    ধ্রুব ও নীলার বিবাহ গান্ধর্ব বিবাহের অন্তর্গত।

    স্মৃতিশাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের উল্লেখ আছে: ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য, আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ। এর মধ্যে বর্তমান সমাজে ব্রাহ্মবিবাহ প্রচলিত হলেও গান্ধর্ব বিবাহেরও প্রচলন আছে। নারী ও পুরুষ পরস্পর শপথ করে মাল্যবিনিময়ের মাধ্যমে যে বিবাহ করে, তার নাম গান্ধর্ব বিবাহ। মহাভারতের দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার বিবাহ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

    উদ্দীপকে ধ্রুব ও নীলা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে মালা বদল ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। তাদের বিবাহে আত্মীয়-পরিজন নয়, কেবল দুজন বন্ধু উপস্থিত ছিল। এখানে পারস্পরিক শপথ ও মাল্যবিনিময় রয়েছে, যা গান্ধর্ব বিবাহের বৈশিষ্ট্য। অতএব, ধ্রুব ও নীলার বিবাহ গান্ধর্ব বিবাহ।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্কারটি হলো বিবাহ। এখানে ধ্রুব-নীলা ও অনিল-শুভশ্রীর বিবাহ এবং অনিল-শুভশ্রীর সংসারে সন্তান ও বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসের কথা বলা হয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিবাহের গুরুত্ব অনেক।

    হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে সমগ্র জীবনে যে দশটি সংস্কার আছে, তার মধ্যে বিবাহ শ্রেষ্ঠ। হিন্দু বিবাহ কোনো চুক্তি নয়, এটি জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক অধ্যায়। বিবাহের সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্র 'যদেতৎ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম'-এ স্বামী-স্ত্রীর একাত্মতা প্রকাশ পায়।

    ১. পারিবারিক জীবনে গুরুত্ব: বিবাহের মাধ্যমে স্বামী সন্তানের জনক হয়ে পিতৃত্ব এবং স্ত্রী জননীরূপে মাতৃত্ব লাভ করেন। অনিল ও শুভশ্রীর সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে গড়ে ওঠা সংসার তারই উদাহরণ। মাতা, পিতা, পুত্র, কন্যাকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে ওঠে।
    ২. মানবিক গুণের বিকাশ: পরিবারকে কেন্দ্র করে প্রেম-প্রীতি, স্নেহ, বাৎসল্যের মতো সুকুমার বৃত্তিগুলো পূর্ণ বিকশিত হয়। এভাবে পরিবার আলোকিত মানুষ তৈরির সূতিকাগার হয়ে ওঠে।
    ৩. ধর্মীয় দায়িত্ব পালন: স্ত্রী পুরুষের সহধর্মিণী। স্ত্রী ছাড়া পুরুষের কোনো ধর্মকার্যই সম্পূর্ণ হয় না। বিবাহের ফলে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও আসে। এছাড়া বিবাহের মধ্য দিয়ে গার্হস্থ্য আশ্রমে প্রবেশ করে পিতৃযজ্ঞ, নৃযজ্ঞ প্রভৃতি পালন করা যায়।
    ৪. সামাজিক গুরুত্ব: আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিবাহ সামাজিক স্বীকৃতি ও মিলনের উপলক্ষ। অনিল ও শুভশ্রীর ধুমধাম করে সম্পন্ন বিবাহ সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে।

    তবে পণপ্রথা এই পবিত্র সংস্কারের পথে একটি সামাজিক ব্যাধি, যা পরিহার করতে হবে।

    সুতরাং, বিবাহ কেবল দুজন মানুষের মিলন নয়; এটি পারিবারিক সুখ-শান্তি, মানবিক গুণের বিকাশ ও সামাজিক বন্ধনের ভিত্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন