হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

বিমল বাবু তার পরিবার দেখাশোনা করেন। অতিথি সেবা, মা-বাবার দেখাশোনা করেন। তিনি সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করেন। অপরদিকে, তার বড় ভাই দেবব্রত জাগতিক চিন্তা ত্যাগ করে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্ম কথা শ্রবণ করেন। তিনি মনে করেন, জাগতিক চিন্তা না করে ঈশ্বর সাধনায় মুক্তি লাভ সম্ভব। তাই তিনি শুধু ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন।

  1. ক)

    অবতার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কোন আশ্রমে বিদ্যাশিক্ষা লাভ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বিমল বাবুর কাজগুলো কোন আশ্রমের পর্যায় পড়ে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দেবব্রতের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কি মোক্ষলাভ সম্ভব? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভগবান বিষ্ণু যখন বিভিন্ন রূপ ধরে জগতের কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে অবতার বলে।

  2. খ)

    ব্রহ্মচর্য আশ্রমে বিদ্যাশিক্ষা লাভ করা যায়।

    মানব জীবনের প্রথম পঁচিশ বছর ব্রহ্মচর্য আশ্রম। এ সময় গুরুগৃহে গিয়ে গুরুর কাছে দীক্ষা নিয়ে শাস্ত্র অধ্যয়ন করতে হয়। সঙ্গে আত্মসংযম, পরিশ্রম ও কঠোর জীবনযাপনের অভ্যাসও গড়ে ওঠে। শিক্ষা শেষে গুরুর নির্দেশে ব্রহ্মচারী গৃহে ফিরে যান।

  3. গ)

    বিমল বাবুর কাজগুলো গার্হস্থ্য আশ্রমের পর্যায়ে পড়ে।

    গার্হস্থ্য আশ্রমের ধারণা: মানুষের শতবর্ষের জীবনকে চারটি আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে। এর দ্বিতীয় পর্যায় গার্হস্থ্য আশ্রম। ব্রহ্মচর্য শেষে বিবাহ করে সন্তান-সন্ততির ভরণ-পোষণসহ পারিবারিক জীবন পালনই এ আশ্রমের কাজ। এ আশ্রমে প্রতিদিন পাঁচটি যজ্ঞ করতে হয়: পিতৃযজ্ঞ (মা-বাবার সেবা ও শ্রদ্ধা), দেবযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ (জীবজন্তুর পরিচর্যা), নৃযজ্ঞ (অতিথি সেবা) ও ঋষিযজ্ঞ (শাস্ত্র পাঠ)। এছাড়া মঠ, মন্দির, বিদ্যালয় ও চিকিৎসালয় স্থাপনের মাধ্যমে সমাজের প্রতি কর্তব্য পালনও গার্হস্থ্য আশ্রমের অন্তর্গত।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: উদ্দীপকে বিমল বাবু তাঁর পরিবার দেখাশোনা করেন, অতিথি সেবা ও মা-বাবার যত্ন নেন এবং সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করেন। মা-বাবার সেবা পিতৃযজ্ঞ এবং অতিথি সেবা নৃযজ্ঞের সাথে মেলে, আর সামাজিক দায়িত্ব সমাজের প্রতি কর্তব্যের অংশ। এ সবই গার্হস্থ্য আশ্রমের বৈশিষ্ট্য।

    অতএব, বিমল বাবুর কাজগুলো গার্হস্থ্য আশ্রমের পর্যায়ে পড়ে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দেবব্রত জাগতিক চিন্তা ত্যাগ করে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্মকথা শোনেন এবং শুধু ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন। তিনি মনে করেন, এতেই মুক্তি সম্ভব। আমার মতে, কেবল এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মোক্ষলাভ নিশ্চিত নয়। সঠিক মনোভাবে সাধনার সাথে যুক্ত হলে তবেই তা সম্ভব হতে পারে।

    মোক্ষ হলো চিরমুক্তি, অর্থাৎ জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে আর পুনর্জন্ম না নেওয়া। গীতায় মোক্ষলাভের তিনটি পথের কথা বলা হয়েছে: কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তিযোগ। এর যেকোনো একটি নিষ্ঠার সাথে অনুশীলন করলে মোক্ষলাভ সম্ভব।

    ১. ধর্মকথা শ্রবণের মূল্য: ধর্মকথা শ্রবণ ও ঈশ্বর চিন্তা জ্ঞান ও ভক্তির সাথে যুক্ত। এগুলো মনকে শুদ্ধ করে এবং ঈশ্বরের দিকে এগিয়ে নেয়, যা মোক্ষের অনুকূল।

    ২. কর্মত্যাগ মোক্ষের উপায় নয়: গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, মোক্ষলাভের জন্য কর্মত্যাগের প্রয়োজন নেই। দেহধারী জীবের পক্ষে সম্পূর্ণ কর্ম পরিত্যাগ করা সম্ভবও নয়। প্রয়োজন কর্মকে ফলের আশা ত্যাগ করে নিষ্কাম কর্মে পরিণত করা। দেবব্রত দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে কেবল শ্রবণে সীমাবদ্ধ থাকলে এ পথ পূর্ণ হয় না।

    ৩. সন্ন্যাসের প্রকৃত অর্থ: শুধু গৃহাদি কর্ম ত্যাগ করলেই সন্ন্যাস হয় না। কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগই সন্ন্যাসের মূল কথা। দেবব্রতের মনোভাবে এর প্রতিফলন স্পষ্ট নয়।

    ৪. গার্হস্থ্য আশ্রমের শ্রেষ্ঠত্ব: কলিযুগে গার্হস্থ্য আশ্রমে থেকে জীবনযাপন করাই ভালো বলা হয়েছে। ধর্ম পালনের উদ্দেশ্য 'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ', অর্থাৎ নিজের মুক্তি ও জগতের কল্যাণ। বিমল বাবু পরিবার ও সমাজের কল্যাণ করছেন, আর দেবব্রত দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন।

    সুতরাং, কেবল জাগতিক দায়িত্ব ত্যাগ করে ধর্মকথা শুনলে মোক্ষলাভ নিশ্চিত নয়; নিষ্কাম কর্ম এবং একনিষ্ঠ ভক্তি বা জ্ঞানের সমন্বয় ঘটলেই তা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন