হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

নমিতা দশম শ্রেণির ছাত্রী। আচার-ব্যবহারে সে অমায়িক। গুরুজনদের সাথে দেখা হলে সে মাথানত করে অভিবাদন জানায়। এ জন্য গুরুজনরা তার প্রতি সবসময়ই সদয় থাকে। কিন্তু তার বাবার প্রতি সে মাঝে মাঝে রেগে যায়। কারণ তার বাবা একজন ধূমপায়ী। নমিতা ও তার মা অনেক বোঝানোর পরও তিনি এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না, তবে চেষ্টা করছেন। বর্তমানে তিনি কাজটির জন্য খুবই অনুতপ্ত।

  1. ক)

    স্মৃতিশাস্ত্র কাকে' বলে?,

    (1)
  2. খ)

    আমাদের ধর্ম পালন করার কারণ বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    নমিতা গুরুজনদের প্রতি কোন ধরনের প্রণাম করে থাকে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নমিতার বাবার কাজটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বেদের পরে কর্তব্য-অকর্তব্য ও ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে। মনুসংহিতা, পরাশর সংহিতা ও যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা এর উদাহরণ।

  2. খ)

    শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যা থেকে সাংসারিক উন্নতি ও নিশ্চিত মঙ্গল লাভ হয়, তার নাম ধর্ম। ধর্ম পালনের মাধ্যমে মানুষ নৈতিক চরিত্র গঠন করে এবং ন্যায়-অন্যায় ও ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শেখে। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের কল্যাণ হয়। ধর্মের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরলাভ বা মোক্ষের পথে অগ্রসর হয়। তাই আমরা ধর্ম পালন করি।

  3. গ)

    নমিতা গুরুজনদের প্রতি অভিবাদন ধরনের প্রণাম করে থাকে।

    ধারণা : প্রণাম বলতে প্রকৃষ্টরূপে নমন বা নমস্কার বোঝায়। প্রণাম চার প্রকার—অভিবাদন, পঞ্চাঙ্গ প্রণাম, অষ্টাঙ্গ প্রণাম ও নমস্কার। বাক্য দ্বারা ‘প্রণাম করি’ বলে আনত হওয়াকে অভিবাদন বলে। অনেক সময় বাক্য উচ্চারণ না করে কেবল আনত হয়েও অভিবাদন জানানো হয়। প্রথাগত শিষ্টাচার অনুযায়ী বয়সে যে ছোট, সে বড়দের প্রণাম বা নমস্কার জানাবে এবং বড়রা আশীর্বাদ করবেন।

    উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : নমিতা গুরুজনদের সাথে দেখা হলে মাথা নত করে অভিবাদন জানায়। এখানে সে আনত হয়ে শ্রদ্ধা প্রকাশ করে, যা অভিবাদনের বৈশিষ্ট্য। এতে তার ভক্তি ও শিষ্টাচারের পরিচয় মেলে এবং গুরুজনরা তার প্রতি সদয় থাকেন।

    অতএব, নমিতার প্রণাম অভিবাদন।

  4. ঘ)

    নমিতার বাবার ধূমপানের অভ্যাস পরিবার ও সমাজজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, কারণ ধূমপান মাদকাসক্তির অন্তর্ভুক্ত এবং হিন্দুধর্মে মাদক গ্রহণ অধর্মের পথ।

    ধারণা : ধূমপান ও মাদকাসক্তি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধন করে। একবার শুরু করলে তা নেশায় পরিণত হয় এবং সহজে ছাড়া যায় না। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করেন, তাই এ দেহ ঈশ্বরের মন্দির এবং একে অপবিত্র করা চলবে না।

    ১. শারীরিক ক্ষতি : ধূমপানে নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক আলসার ও হৃদরোগের মতো রোগ হয়। শুধু ধূমপায়ীই নন, তাঁর আশপাশের মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নমিতার পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে।
    ২. আর্থিক ও পারিবারিক ক্ষতি : নেশার জন্য অর্থ ব্যয় পরিবারের আর্থিক সংকট তৈরি করে। নমিতা ও তার মা বোঝানোর পরও বাবা বের হতে পারছেন না, ফলে পরিবারে অশান্তি ও মনোকষ্ট তৈরি হয়। নমিতা বাবার ওপর রেগে যায়, যা পারিবারিক বন্ধন শিথিল করে।
    ৩. সামাজিক ও নৈতিক ক্ষতি : মাদকাসক্তের বিবেকবুদ্ধি লোপ পেতে পারে, সে অনৈতিক আচরণ করে এবং সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়। সমাজে অন্যদের জন্য এটি খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করে, বিশেষ করে সন্তানদের জন্য।
    ৪. প্রতিকার : পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমে মাদকাসক্তিকে প্রতিরোধ করা যায়। ‘আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়’—বাবাকে দৃষ্টান্ত হতে হবে। অনুতপ্ত হয়ে চেষ্টা করা তাঁর জন্য ইতিবাচক।

    সুতরাং, ধূমপান নমিতার বাবা ও তাঁর পরিবার ও সমাজ—সবার জন্যই ক্ষতিকর। তাই এ অভ্যাস ত্যাগ করে ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনে ফিরে আসাই কল্যাণকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন