ভূগোল এবং পরিবেশ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
সিমা তার নানার বাড়ি বান্দরবানে বেড়াতে গেল। সেখানে তার এক ধরনের ভূমিরূপের সাথে পরিচয় ঘটল। অন্যদিকে রিতা তার দাদার বাড়ি চাঁদপুরে এবং গিতা তার খালার বাড়ি টাঙ্গাইলে বেড়াতে গেল। সেখানকার ভূমিরূপ সিমার ভ্রমণকৃত ভূমিরূপ থেকে আলাদা।
- ক)(1)
বরেন্দ্রভূমি কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন সৃষ্ট ঝড়ের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সিমার ভ্রমণকৃত অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রিতা এবং গিতার ভ্রমণকৃত ভূমিরূপ দুটির বৈশিষ্ট্যে কোনো সাদৃশ্য আছে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, প্লাবন সমভূমি থেকে ৬ থেকে ১২ মিটার উঁচু, প্লাইস্টোসিনকালের সোপান অঞ্চলকে বরেন্দ্রভূমি বলে।
- খ)
গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির ওপর লম্ব কিরণ দেওয়ায় স্থলভাগ খুব উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। তখন সাগর থেকে আসা উষ্ণ আর্দ্র বায়ু ও উত্তর-পশ্চিম থেকে আসা শীতল শুষ্ক বায়ুর সংঘর্ষে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড় ওঠে। মার্চ-এপ্রিল মাসে সৃষ্ট এই ঝড়কে কালবৈশাখি বলে।
- গ)
সিমার ভ্রমণকৃত বান্দরবান অঞ্চল বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি অঞ্চলের (দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ) অন্তর্গত।
১. গঠনকাল: টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থানের সময় এ পাহাড়গুলো সৃষ্টি হয়েছে।
২. উপাদান: এগুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
৩. উচ্চতা: গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বান্দরবানের তাজিনডং (বিজয়) ১,২৮০ মিটার উঁচু, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
৪. সম্পর্ক: পাহাড়গুলো আসামের লুসাই ও মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়। - ঘ)
রিতা চাঁদপুরে (প্লাবন সমভূমি) এবং গিতা টাঙ্গাইলে (মধুপুরের গড়, প্লাইস্টোসিনকালের সোপান অঞ্চল) গিয়েছে। এ দুই ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্যে কিছু সাদৃশ্য আছে, আবার পার্থক্যও আছে।
১. সাদৃশ্য: দুটিই পাহাড়ি অঞ্চলের তুলনায় সমতলপ্রায় ও কম বন্ধুর। দুটিই নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত এবং কৃষিকাজ ও বসবাসের উপযোগী।
২. পার্থক্য-গঠনকাল: মধুপুরের গড় আনুমানিক ২৫,০০০ বছর আগে প্লাইস্টোসিনকালে গঠিত পুরাতন পলল। চাঁদপুরের প্লাবন সমভূমি সাম্প্রতিককালের নতুন পলিতে গঠিত।
৩. পার্থক্য-উচ্চতা: মধুপুরের গড় সমভূমি থেকে প্রায় ৩০ মিটার উঁচু, কিন্তু প্লাবন সমভূমি নিচু এবং বর্ষায় প্লাবিত হয়।
৪. পার্থক্য-মাটি: মধুপুরের মাটি লালচে ও ধূসর, প্লাবন সমভূমির মাটি নতুন পলিতে উর্বর।সুতরাং, উভয় ভূমিরূপ সমতলপ্রায় ও পলিগঠিত হওয়ায় সাদৃশ্য থাকলেও গঠনকাল, উচ্চতা ও মাটির ভিন্নতায় এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও