অর্থনীতি • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি প্রশ্ন
উদ্দীপক-১: জনাব দিদার একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি তার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়ান। বিকাল বেলা অবসরে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে পাড়ার ছেলেদের ফুটবল কোচ হিসাবে কাজ করেন। উদ্দীপক-২: ইঞ্জিনিয়ার শওকত সাহেব একটা সফটওয়্যার ফার্মের মালিক। তিনি তার কর্মীদের ঈদ বোনাস ছাড়াও প্রতি ছয় মাস অন্তর ফার্মের লভ্যাংশ থেকে বোনাস দিয়ে থাকেন। এতে কর্মীরা ফার্মের উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে দ্বিধা করেন না।
- ক)(1)
ইসলামি অর্থব্যবস্থা -কাকে বলে?
- খ)(2)
মানুষ কেন প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপক-১ এ উল্লিখিত জনাব দিদারের কাজগুলো কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক-২ এ জনাব শওকত অর্থনীতির যে মৌলিক নীতি অনুসরণ করেছেন তা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক। তুমি কি একমত? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে অর্থব্যবস্থায় ইসলামের বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুসরণ করে উৎপাদন, বণ্টন, বিনিময় ও ভোগ পরিচালিত হয়, তাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে।
- খ)
মানুষের সম্পদ সীমিত, কিন্তু অভাব অসীম। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সে অতিরিক্ত এক একক গ্রহণ বা ত্যাগের সুবিধা ও খরচ তুলনা করে। অর্থাৎ সে সামান্য পরিবর্তনের লাভ-ক্ষতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, একে প্রান্তিক চিন্তা বলে। যেমন, আরেক ঘণ্টা পড়ার সুবিধা যদি ওই সময়ের বিকল্প ব্যবহারের সুবিধার চেয়ে বেশি হয়, তবে শিক্ষার্থী আরও এক ঘণ্টা পড়ে। এভাবে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায়।
- গ)
উদ্দীপক-১ এ জনাব দিদার স্কুলে বাংলা পড়িয়ে বেতন পান, যা অর্থনৈতিক কাজ। আর বিকালে বিনা পারিশ্রমিকে ফুটবল কোচিং করানো অনর্থনৈতিক কাজ। কারণ:
১. স্কুলে পড়ানোর বিনিময়ে তিনি আয় করেন এবং এর মূল্য পরিমাপযোগ্য।
২. ফুটবল কোচিংয়ে কোনো আর্থিক বিনিময় নেই, এটি সমাজসেবামূলক ও আনন্দের জন্য করা কাজ।
অতএব, দিদারের কাজগুলো অর্থনৈতিক ও অনর্থনৈতিক উভয় ধরনের। - ঘ)
উদ্দীপক-২ এ জনাব শওকত তাঁর কর্মীদের ঈদ বোনাস ও লভ্যাংশ থেকে বোনাস দেন, ফলে কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করেন। এখানে অর্থনীতির মৌলিক নীতি প্রণোদনায় মানুষ সাড়া দেয় (People Respond to Incentives) অনুসরণ করা হয়েছে। আমি উক্তির সাথে একমত।
১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: বোনাসের মতো প্রণোদনা পেলে কর্মীরা বেশি পরিশ্রম করে, ফলে ফার্মের উৎপাদন ও আয় বাড়ে।
২. বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: ফার্মের প্রসারে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যা অর্থনীতিকে গতিশীল করে।
৩. দক্ষতা ও উদ্ভাবন: প্রণোদনা কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ও নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহ দেয়, ফলে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং, প্রণোদনার নীতি অনুসরণ উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও