‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি ব্রিটিশ কোম্পানি প্রথম ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আসে এবং পরবর্তীতে ভারতীয় শাসকদের রাজনৈতিক দক্ষতা না থাকার কারণে ক্ষমতার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৭৫৭ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে তারা ভারতের শাসন ক্ষমতায় আরোহণ করে এবং তারা প্রায় দু'শ বছর ভারতে শাসনকার্য চালায়।

  1. ক)

    ভাস্কো-ডা-গামা কত সালে ভারতবর্ষে আসেন?

    (1)
  2. খ)

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কোম্পানির অধীনে বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাস্কো-ডা-গামা ১৪৯৮ সালে ভারতবর্ষে আসেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে একটি রাষ্ট্রের প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনার ক্ষমতাকে বোঝায়। এ ব্যবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বণ্টন করা হয় এবং প্রাদেশিক বিষয়াবলি পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারগুলো আইনসভার কাছে জবাবদিহি থাকে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে ভারতীয় উপমহাদেশে সীমিত আকারে প্রথমবারের মতো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধটি হলো ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের পলাশীর যুদ্ধ। এ যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা: প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায় দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখের বিশ্বাসঘাতকতা এবং ব্রিটিশদের সাথে গোপন চুক্তি নবাবের পরাজয়ের মূল কারণ।
    ২. মীর জাফরের নিষ্ক্রিয়তা: যুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে মীর জাফর অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থেকে নবাবকে ধোঁকা দেন এবং নবাবকে যুদ্ধ বন্ধের ভুল পরামর্শ দেন।
    ৩. নবাবের দূরদর্শিতার অভাব: ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আঁচ করতে পেরেও নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরের আনুগত্যের ওপর পুনরায় আস্থা রেখে বড় ভুল করেছিলেন।
    ৪. ইংরেজদের কূটকৌশল ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র: রবার্ট ক্লাইভের কূটকৌশল, সামরিক প্রস্তুতি এবং বৃষ্টিতে নবাবের গোলাবারুদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে ইংরেজরা সহজ বিজয় পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কোম্পানিটি হলো ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত তাদের অধীনে বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. রাজনৈতিক অবস্থা: নবাবকে পুতুল বানিয়ে কোম্পানি প্রকৃত ক্ষমতা দখল করে। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন, যা বাংলার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রজাদের নিরাপত্তা বিলুপ্ত হয়।
    ২. অর্থনৈতিক অবস্থা: দেওয়ানি পাওয়ার পর কোম্পানি কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত খাজনা আরোপ করে এবং সম্পদ ব্রিটেনে পাচার শুরু করে। যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৭৭০ সালের ভয়াবহ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর', যাতে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। এছাড়া তাঁতি ও কুটির শিল্প ধ্বংস করে ব্রিটিশ পণ্যের বাজার গড়ে তোলা হয়।
    ৩. সামাজিক অবস্থা: শাসনকাজে কোম্পানির উদাসীনতা ও শোষণের ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে সমাজে নতুন মধ্যস্বত্বভোগী জমিদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, যারা কৃষকদের ওপর চরম নিপীড়ন চালাত। একই সাথে সামাজিক কাঠামোতে দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য ও বৈষম্যের জন্ম হয়।

    অতএব, কোম্পানির শাসনকাল বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ, অর্থনীতি লুণ্ঠন এবং সামাজিক কাঠামো ধ্বংসের এক কালো অধ্যায় ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন