রসায়ন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
2PO (g) ⇌ P2(g) + O2(g); ΔH = +YKJধরে নাও যে, বিক্রিয়াটি একটি বদ্ধ নলে সংঘটিত হচ্ছে। বিক্রিয়কের প্রাথমিক পরিমাণ 2a মোল এবং সাম্যাবস্থায় প্রতিটি উৎপাদের পরিমাণ α মোল।
- ক)(1)
পোলার যৌগ কাকে বলে?
- খ)(2)
অর্বিটাল চিত্র একে O2 অণুতে বিদ্যমান σ এবং π বন্ধন দেখাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সমীকরণটির জন্য Kp ও Kc এর মধ্যে একটি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি থেকে কীভাবে অধিক পরিমাণ উৎপাদ পাওয়া যায়? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব সমযোজী যৌগের অণুতে পরমাণুসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্যের কারণে আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক প্রান্ত বা পোলের সৃষ্টি হয়, তাদেরকে পোলার যৌগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস: ₈O = 1s² 2s² 2p_x² 2p_y¹ 2p_z¹। প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণুর যোজ্যতা স্তরে দুটি অযুগ্ম p-অর্বিটাল (2p_y ও 2p_z) থাকে।
O₂ অণু গঠনের সময় দুটি অক্সিজেন পরমাণুর মুখোমুখি অধিক্রমণে একটি সিগমা (σ) বন্ধন এবং পাশাপাশি অধিক্রমণে একটি পাই (π) বন্ধন গঠিত হয়:
১. সিগমা (σ) বন্ধন: দুটি অক্সিজেন পরমাণুর একটি করে 2p_y অর্বিটাল আন্তঃনিউক্লীয় অক্ষ বরাবর সামনাসামনি বা মুখোমুখি অধিক্রমণ করে একটি শক্তিশালী p-p σ-বন্ধন তৈরি করে।
২. পাই (π) বন্ধন: অবশিষ্ট দুটি সমান্তরাল 2p_z অর্বিটাল অক্ষের উভয় পাশে পাশাপাশি অধিক্রমণ করে একটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল p-p π-বন্ধন তৈরি করে।
[বিবরণ সংবলিত অর্বিটাল চিত্রে দুটি p-অর্বিটালের অক্ষীয় অধিক্রমণ দ্বারা σ এবং তাদের লম্বভাবে সমান্তরাল p-অর্বিটালের পার্শ্বীয় অধিক্রমণ দ্বারা π বন্ধন নির্দেশ করা হয়।] - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি হলো:
2PO (g) ⇌ P₂(g) + O₂(g)এখানে,
বিক্রিয়ার মোল সংখ্যার পরিবর্তন, Δn = (উৎপাদসমূহের মোট মোল সংখ্যা) - (বিক্রিয়কসমূহের মোট মোল সংখ্যা)
Δn = (১ + ১) - ২ = ২ - ২ = ০আমরা জানি, Kp ও Kc এর মধ্যকার সাধারণ সম্পর্কটি হলো:
Kp = Kc(RT)^(Δn)যেহেতু উদ্দীপকের বিক্রিয়াটির ক্ষেত্রে Δn = ০,
Kp = Kc(RT)⁰
বা, Kp = Kc × ১
∴ Kp = Kcসুতরাং, উদ্দীপকের বিক্রিয়াটির জন্য Kp ও Kc এর মান পরস্পর সমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি:
2PO (g) ⇌ P₂(g) + O₂(g); ΔH = +Y kJলা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুসারে সাম্যাবস্থায় নিয়ামক পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ করে কীভাবে অধিক উৎপাদ পাওয়া যায় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. তাপমাত্রার প্রভাব:
প্রদত্ত বিক্রিয়াটি একটি তাপহারী বিক্রিয়া (যেহেতু ΔH ধনাত্মক)। লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী, তাপহারী বিক্রিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে সাম্যাবস্থা ডানদিকে অর্থাৎ উৎপাদের দিকে সরে যায়। ফলে PO-এর বিয়োজন বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদ (P₂ ও O₂)-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অতএব, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে অধিক উৎপাদ পাওয়া যাবে।২. চাপের প্রভাব:
বিক্রিয়াটিতে বিক্রিয়কের মোট মোল সংখ্যা = ২ এবং উৎপাদের মোট মোল সংখ্যা = (১ + ১) = ২। অর্থাৎ, উভয় পাশে গ্যাসীয় মোল সংখ্যা সমান (Δn = ০)। সুতরাং, এ বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থার ওপর চাপের কোনো প্রভাব নেই।৩. ঘনমাত্রার প্রভাব:
লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী সাম্যাবস্থায় বিক্রিয়ক PO-এর ঘনমাত্রা বৃদ্ধি করলে বা সিস্টেম থেকে অনবরত উৎপাদ P₂ বা O₂ সরিয়ে নিলে সাম্যাবস্থা ডানদিকে সরে যাবে, যার ফলে অধিক পরিমাণ উৎপাদ তৈরি হবে।অতএব, বিক্রিয়াতন্ত্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং বিক্রিয়কের সরবরাহ বৃদ্ধি অথবা উৎপাদকে দ্রুত অপসারণ করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পরিমাণ উৎপাদ লাভ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও