ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা-১ : মাওলানা বুরহান উদ্দিন ইসলামি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর এলাকা খাদিমগরে ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করেন। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালী জাকির চেয়ারম্যান ও তার লোকজনসহ অনেকেই ইসলাম প্রচারে বাধা সৃষ্টি করে। তারা ইসলামের আদর্শ গ্রহণ তো করেইনি, উপরন্তু মাওলানা বুরহান উদ্দিন ও তাঁর সঙ্গীদের উপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। অতঃপর বাধ্য হয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী সুলেমাননগরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তিনি দ্বীন ইসলামের প্রচার কাজ চালাতে থাকেন।
ঘটনা-২ : অবশেষে মাওলানা বুরহান উদ্দিন জাকির চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে পরাজিত করে খাদিমগরে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এই এলাকার অধিবাসীরা জীবনের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু তিনি কোন প্রকার প্রতিশোধ না নিয়ে সকলকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।
- ক)(1)
'মিরাজ' কী?
- খ)(2)
হুদাইবিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবিন' বলা হয় কেন?
- গ)(3)
মহানবি (সা.) জীবনের কোন ঘটনার সাথে মাওলানা বুরহান উদ্দিনের নিজ এলাকা ত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনা-২ মহানবি (সা.) মক্কা বিজয়ের পর ক্ষমার যে নিদর্শন স্থাপন করেন এর অনুরূপ কিনা? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মিরাজ' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা সিঁড়ি; ইসলামিক পরিভাষায় মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সশরীরে অলৌকিকভাবে ঊর্ধ্বাকাশ ভ্রমণ এবং মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করাকে মিরাজ বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পবিত্র কুরআনে হুদাইবিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই সন্ধির শর্তগুলো কুরাইশদের পক্ষে গেলেও এর ফলে কুরাইশরা মুসলমানদেরকে একটি পৃথক রাজনৈতিক ও সার্বভৌম শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সন্ধির ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইসলাম প্রচারের মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের পথ সুগম করেছিল। তাই এই সন্ধিকে প্রকাশ্য বিজয় বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাওলানা বুরহান উদ্দিনের নিজ এলাকা ত্যাগের সাথে মহানবি (সা.)-এর ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ঐতিহাসিক 'হিজরত'-এর ঘটনার পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।
মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করার পর কুরাইশরা মহানবি (সা.) ও সাহাবিদের ওপর অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এমতাবস্থায় আল্লাহর নির্দেশে তিনি স্বজাতি ও জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করে ইয়াসরিবে (মদিনা) গমন করেন, যাকে ইসলামি ইতিহাসে 'হিজরত' বলা হয়।
উদ্দীপকে মাওলানা বুরহান উদ্দিন খাদিমগরে ইসলাম প্রচার শুরু করলে এলাকার প্রভাবশালী জাকির চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী সুলেমাননগরে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই দ্বীন প্রচার অব্যাহত রাখেন। মাওলানা বুরহান উদ্দিনের এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে গিয়ে প্রচার কার্যক্রম চালানো মহানবি (সা.)-এর মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরতেরই অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের ঘটনা-২ মহানবি (সা.)-এর মক্কা বিজয়ের পর প্রদর্শিত ঐতিহাসিক সাধারণ ক্ষমা ও মহানুভবতার অনুরূপ।
৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মহানবি (সা.) বিনা রক্তপাতে বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন। মক্কার কুরাইশরা, যারা অতীতে মহানবি (সা.) ও মুসলমানদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিল এবং তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, তারা পরাজয়ের পর চরম শাস্তির আশঙ্কায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মহানবি (সা.) কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ না করে বলেছিলেন— "আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত ও স্বাধীন।" তিনি চরম শত্রুদেরকে নিঃশর্ত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ দেখা যায়, মাওলানা বুরহান উদ্দিন জাকির চেয়ারম্যান ও তার লোকদের পরাজিত করার পর সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপটি সরাসরি মক্কা বিজয়ের পর মহানবি (সা.) কর্তৃক কুরাইশদের প্রতি প্রদর্শিত ক্ষমাশীলতা ও আদর্শিক বিজয়ের প্রতিফলন বহন করে। সুতরাং, এটি নিঃসন্দেহে মহানবি (সা.)-এর ক্ষমার নিদর্শনের অনুরূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও