ইসলাম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
ইসলাম প্রশ্ন
আলিফ সাহেব কুরআনের হাফেজ এবং নামকরা সার্জারি ডাক্তার। তিনি বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জন্মগত জোড়াশিশু অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করেন। এ সাফল্যের কারণে তাকে এ বিষয়ের পথিকৃত বলা হয়। তার ভাই কুরবান সাহেব একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি রাতের বেলা ঘুরে ঘুরে গরিব মানুষদের খোঁজ-খবর নেন। দরিদ্র প্রসূতি মায়েদের পরিচর্যা ও সেবা প্রদানের জন্য স্ত্রী হালিমাকে বাড়ি বাড়ি পাঠান। অফিসের কাজে ব্যবহারের জন্য পরিষদের টাকায় কয়েকটি ল্যাপটপ ক্রয় করা হয়। প্রত্যেক মেম্বারকে একটি করে ল্যাপটপ প্রদান করা হয় কিন্তু তিনি নিজে নেন তিনটি ল্যাপটপ।
- ক)(1)
আইয়ামে জাহেলিয়া কাকে বলে?
- খ)(2)
আবু বকর (রা)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
আলিফ সাহেবের কর্মকাণ্ড চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোন মনীষীর অবদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, কুরবান সাহেবের কর্মকাণ্ডে কোনো একজন খলিফার আদর্শ সম্পূর্ণরূপে ফুটে উঠেছে? উক্ত খলিফাকে চিহ্নিতপূর্বক তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ইসলাম আবির্ভাবের পূর্ববর্তী অজ্ঞতা, অন্যায়, অত্যাচার ও কুসংস্কারে পরিপূর্ণ সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়া বা অন্ধকার যুগ বলে।
- খ)
রাসুল (স.)-এর ওফাতের পর ইসলাম এক সংকটের মুখে পড়ে। তখন ভণ্ড নবীর আবির্ভাব, ধর্মত্যাগের হিড়িক ও যাকাত অস্বীকারের ঘটনা ঘটে। হযরত আবু বকর (রা.) কঠোর হাতে এসব বিদ্রোহ দমন করেন। এভাবে তিনি ইসলামকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন বলে তাঁকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।
- গ)
আলিফ সাহেবের কর্মকাণ্ড চিকিৎসা বিজ্ঞানে আবুল কাসিম আয-যাহরাবি (আল-যাহরাবি)-এর অবদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলিফ সাহেব সার্জারিতে জোড়াশিশু আলাদা করে পথিকৃৎ হয়েছেন।
আয-যাহরাবিকে শল্যচিকিৎসার জনক বলা হয়। তিনি অস্ত্রোপচারের বহু যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেন এবং তাঁর গ্রন্থ আত-তাসরিফ-এ শল্যচিকিৎসার পদ্ধতি বিস্তারিত বর্ণনা করেন। ইউরোপে দীর্ঘদিন এই গ্রন্থ পাঠ্য ছিল। তাই শল্যচিকিৎসায় পথিকৃৎ আলিফ সাহেবের সাথে তাঁর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
না, কুরবান সাহেবের কর্মকাণ্ডে খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর আদর্শ আংশিকভাবে ফুটে উঠেছে, সম্পূর্ণরূপে নয়।
যুক্তি:
১. আদর্শের মিল: উমর (রা.) রাতে ঘুরে ঘুরে প্রজাদের খোঁজখবর নিতেন। কুরবান সাহেবও রাতে গরিবদের খবর নেন এবং প্রসূতি মায়েদের সেবার ব্যবস্থা করেন, যা উমর (রা.)-এর জনসেবার অনুরূপ।
২. আমানতের খিয়ানত: উমর (রা.) রাষ্ট্রীয় সম্পদকে জনগণের আমানত মনে করতেন এবং নিজের জন্য অতিরিক্ত নিতেন না। কিন্তু কুরবান সাহেব পরিষদের অর্থে অন্য সদস্যদের একটি করে ল্যাপটপ দিয়ে নিজে তিনটি নিয়েছেন।
৩. ন্যায়ের অভাব: এই পক্ষপাত উমর (রা.)-এর ন্যায়নীতি ও জবাবদিহির আদর্শের পরিপন্থী।সুতরাং, সেবার দিক থেকে মিল থাকলেও সম্পদ ব্যবহারে উমর (রা.)-এর আদর্শ সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও