হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
তন্দ্রা ও মিনতি দুই বোন। দুজনই অসুস্থ। তন্দ্রার শরীর খুবই দুর্বল। হাত-পা কাঁপে। কিছু সময় চলাফেরা করলে পায়ে জোর পায় না, এ কারণে মাঝে মাঝে ঠিক মতো দাঁড়াতে ও হাঁটতে পারে না। তার বোন মিনতি ডায়বেটিস ও কোষ্ঠবদ্ধতায় আক্রান্ত। তাদের দুজনার সমস্যা দেখে তাদের কাকা ভিন্ন ভিন্ন দুটি আসন অনুশীলনের পরামর্শ দেন। দুজনেই মন দিয়ে আসন অনুশীলন করে।
- ক)(1)
যোগসাধনা কাকে বলে?
- খ)(2)
ব্রহ্মচর্য বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে তন্দ্রার আসন অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
মিনতি যে আসনটি অনুশীলন করে তার গুরুত্ব পঠিত বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যোগের মাধ্যমে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের আরাধনার প্রক্রিয়াকে, অর্থাৎ জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগের সাধনাকে যোগসাধনা বলে।
- খ)
ব্রহ্মচর্য শব্দের আভিধানিক অর্থ বেদাদি শাস্ত্রের অনুশীলন এবং পবিত্র সংযত জীবনযাপন। এটি অষ্টাঙ্গযোগের পাঁচটি যমের একটি। জীবনে ব্রহ্মচর্য প্রতিষ্ঠিত হলে দেহে শক্তি ও মনে সাহস আসে এবং বুদ্ধি বিকশিত হয়। এতে যোগীর জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে ও ঈশ্বরদর্শন সহজ হয়।
- গ)
উদ্দীপকে তন্দ্রার সমস্যা হলো শরীরের দুর্বলতা, হাত-পা কাঁপা এবং পায়ে জোর না পাওয়া। পাঠ্যবই অনুযায়ী এ সমস্যায় উপযোগী আসন বৃক্ষাসন। এর অনুশীলন পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো।
আসনের ধারণা: এই আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের মতো হয় বলে একে বৃক্ষাসন বলে।
অনুশীলন পদ্ধতি:
১. দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে; পায়ের পাতা মাটিতে সমানভাবে থাকবে।
২. ডান পা হাঁটুতে ভেঙে গোড়ালি বাঁ ঊরুমূলে রাখতে হবে। পায়ের পাতা ঊরুর সঙ্গে লেগে থাকবে ও আঙুল নিচের দিকে ফেরানো থাকবে।
৩. এবার শুধু বাঁ পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে।
৪. নমস্কারের ভঙ্গিতে দুই হাতের তালু জোড়া করে বুকের কাছে এনে তারপর সোজা মাথার ওপর তুলতে হবে।
৫. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে নিশ্চল হয়ে ১০ সেকেন্ড থাকতে হবে। তারপর হাত নামিয়ে পা সোজা করে আগের মতো দাঁড়াতে হবে।
৬. একইভাবে বাঁ পা ভেঙে ডান পায়ের ওপর ভর দিয়ে করতে হবে।
৭. শেষে শবাসনে ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে। এই হলো একবার; এভাবে তিনবার করতে হবে। অভ্যস্ত হলে সময় বাড়িয়ে ৩০ সেকেন্ড করা যায়।এভাবে অনুশীলন করলে যাঁদের হাত-পা কাঁপে ও পা দুর্বল, তাঁদের খুব উপকার হয়। তাই তন্দ্রার জন্য এটি উপযোগী।
- ঘ)
উদ্দীপকে মিনতি ডায়াবেটিস ও কোষ্ঠবদ্ধতায় আক্রান্ত। এ দুটি সমস্যায় পাঠ্যবই অনুযায়ী উপযোগী আসন হলাসন, যা মিনতি অনুশীলন করে বলে ধরা হলো। এর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
আসনের ধারণা: 'হল' শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহভঙ্গি লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটো জোড়া ও সোজা রেখে ধীরে ধীরে মাথার পেছনে নিয়ে পায়ের আঙুল মাটিতে ঠেকিয়ে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হয়।
১. পেটের রোগ নিরাময়: হলাসন কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি পেটের যাবতীয় রোগ দূর করে। তাই মিনতির কোষ্ঠবদ্ধতায় এটি উপকারী।
২. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ: নিয়মিত অনুশীলনে ডায়াবেটিস, বাত বা সায়াটিকা হতে পারে না। প্লীহা, যকৃৎ ও মূত্রাশয়ের কর্মক্ষমতা বাড়ে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
৩. গ্রন্থি ও মেরুদণ্ড সুস্থ রাখা: থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড ও টনসিল গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হয়। মেরুদণ্ড নমনীয় ও সুস্থ থাকে এবং পিঠের ব্যথা দূর হয়।
৪. দেহের সৌষ্ঠব: পেট, কোমর ও নিতম্বের মেদ কমে দেহ সুঠাম হয়।সতর্কতা: যাদের আমাশয়, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং যাদের প্লীহা ও যকৃৎ অস্বাভাবিক বড়, তাদের এ আসন করা উচিত নয়।
সুতরাং, ডায়াবেটিস ও কোষ্ঠবদ্ধতা থেকে মুক্তির জন্য মিনতির হলাসন অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও