হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অনাদি রায় তার বাবার মৃত্যুতে শোকাহত। বাবার আত্মার শান্তির জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং দ্রব্যসামগ্রী উৎসর্গের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করে। অপরদিকে, সোনেকার লেখাপড়া শেষ। সোনেকার বাবা মেয়েকে সংসারী করতে চান। হঠাৎ একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেয়েকে নতুন কাপড়, স্বর্ণালংকার দ্বারা সজ্জিত করেন। নিকট আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের উপস্থিতিতে উপযুক্ত ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দেন। অনুষ্ঠানের দিনটি ছিল সোনেকার জীবনের বিশেষ দিন।

  1. ক)

    সমাবর্তন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পণপ্রথা অধর্ম- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অনাদি রায়ের পিতার মৃত্যুর পর প্রথম করণীয় কাজটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সোনেকার জীবনে বিশেষ দিনের অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় যে অনুষ্ঠান হয়, তাকে সমাবর্তন বলে।

  2. খ)

    কন্যাকে পাত্রস্থ করার সময় বরপক্ষকে নগদ অর্থ বা সম্পদ দেওয়াকে পণ বলে। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি এবং পণ গ্রহণ ও প্রদান দুটোই সমান অপরাধ।

    এ প্রথার মূলে আছে অশিক্ষা, অসচেতনতা ও পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত সমাজব্যবস্থা। এটি নারীকে অমর্যাদা করে ও পরিবারের ক্ষতি করে, এবং রাষ্ট্রীয়ভাবেও নিষিদ্ধ। তাই এটি নিন্দনীয় ও অধর্ম।

  3. গ)

    অনাদি রায়ের পিতার মৃত্যুর পর প্রথম করণীয় কাজ আদ্যশ্রাদ্ধ।

    আদ্যশ্রাদ্ধের ধারণা: শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয়, তাই শ্রাদ্ধ। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করা হয়, তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরদিন এটি অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ, কারণ এটি একজন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে করা হয়। প্রথমে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাস্তুপুরুষ যজ্ঞেশ্বর ও ভূস্বামীর পূজা করতে হয়। এরপর মৃত ব্যক্তির নামে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল, মালা, বিছানা প্রভৃতি মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করা হয় এবং শেষে পিণ্ডদান করা হয়।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: অনাদি রায় বাবার মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে তাঁর আত্মার শান্তির জন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করেন এবং দ্রব্যসামগ্রী উৎসর্গ করেন। এটি আদ্যশ্রাদ্ধের বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে।

    অতএব, অনাদি রায়ের পিতার মৃত্যুর পর প্রথম করণীয় কাজ আদ্যশ্রাদ্ধ।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সোনেকার জীবনের বিশেষ দিনের অনুষ্ঠানটি হিন্দুধর্মের সংস্কার বিবাহ। এটি সোনেকার জীবনে এবং পরিবার ও সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে জীবনের দশটি সংস্কারের মধ্যে বিবাহ শ্রেষ্ঠ। হিন্দুবিবাহ কোনো চুক্তি নয়, এটি জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক অধ্যায়। উদ্দীপকে নতুন কাপড়, স্বর্ণালংকারে সজ্জিত করে আত্মীয়-প্রতিবেশীর উপস্থিতিতে উপযুক্ত পাত্রের হাতে কন্যাকে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা বিবাহের মূল পর্ব সম্প্রদানের ইঙ্গিত দেয়।

    ১. ধর্মীয় গুরুত্ব: হিন্দুসমাজে বিবাহ ধর্মীয় জীবনের চর্চা। স্ত্রী পুরুষের সহধর্মিণী, তাঁকে বাদ দিয়ে পুরুষের কোনো ধর্মকার্য সম্পন্ন হয় না। নারায়ণ, অগ্নি, গুরু ও পুরোহিতকে সাক্ষী রেখে মঙ্গলমন্ত্র পাঠের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয়।

    ২. পারিবারিক গুরুত্ব: বিবাহের মাধ্যমে স্বামী পিতৃত্ব এবং স্ত্রী মাতৃত্ব লাভ করেন। মাতা, পিতা, পুত্র, কন্যা মিলে গড়ে ওঠে সুখের সংসার। এ সংসারে প্রেম, প্রীতি, স্নেহ ও বাৎসল্য প্রভৃতি মানবিক বৃত্তি বিকশিত হয়।

    ৩. সামাজিক গুরুত্ব: বিবাহে নিকট আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই উপস্থিত থাকেন। এতে দুই পরিবারের মধ্যে ও সমাজে সম্পর্ক ও বন্ধন সুদৃঢ় হয়। বিবাহ আলোকিত মানুষ তৈরির সূতিকাগার।

    ৪. দায়িত্ববোধ: 'বিবাহ' শব্দের অর্থ বিশেষরূপে ভারবহন করা। বিবাহের ফলে পুরুষকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও মানসম্ভ্রম রক্ষার দায়িত্ব নিতে হয়, যা দায়িত্বশীল পারিবারিক জীবনের ভিত্তি।

    সুতরাং, সোনেকার বিবাহের অনুষ্ঠানটি তার ব্যক্তিজীবন এবং পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের ভিত্তি রচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন