ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আবিদ সাহেব একজন গরিব কৃষক। তিনি অনেক কষ্টে উপার্জন করে জীবনযাপনের চেষ্টা করেন। তার প্রতিবেশী রাজিব সাহেব একজন বড় ধরনের ব্যবসায়ী। তিনি অসং উপায় অবলম্বন করে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন।

  1. ক)

    'গিবত' অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব আবিদ সাহেবের উপার্জনটি কীরূপ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রাজিব সাহেবের উপার্জনের পদ্ধতিটি কীরূপ? এর ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'গিবত' অর্থ পরনিন্দা, অসাক্ষাতে কারও দোষ আলোচনা করা বা কুৎসা রটনা করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।"

    ব্যবসা হলো শ্রম, মেধা ও মূলধন খাটিয়ে বৈধ পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিতে মুনাফা অর্জন করা, যা সমাজে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। পক্ষান্তরে, সুদ হলো বিনাশ্রমে পুঁজির ওপর নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা, যা শোষণ, জুলুম ও বৈষম্য সৃষ্টি করে। তাই ইসলামে উপার্জনের পথ হিসেবে ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব আবিদ সাহেবের উপার্জনটি হলো হালাল ও কায়িক শ্রমভিত্তিক বৈধ উপার্জন।

    ইসলামে নিজ হাতে বা শারীরিক শ্রম দিয়ে হালাল পন্থায় অর্থ উপার্জন করাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বোত্তম উপার্জন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "ব্যক্তির নিজ হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাবার আর কেউ কখনো খায়নি" (সহিহ বুখারি)।

    উদ্দীপকে আবিদ সাহেব একজন দরিদ্র কৃষক। তিনি কঠোর পরিশ্রম ও কষ্টের মাধ্যমে সৎভাবে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন। কোনো অন্যায় বা অসৎ পথ অবলম্বন না করে ঘাম ঝরিয়ে যে উপার্জন তিনি করেন, তা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ পবিত্র, প্রশংসনীয় এবং ইবাদতের সমতুল্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাজিব সাহেবের উপার্জনের পদ্ধতিটি হলো অসৎ ও হারাম পথ। ইসলামে এ ধরনের উপার্জন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও কবিরা গুনাহ।

    ইসলামে ধোঁকা, প্রতারণা, মজুতদারি, ভেজাল মেশানো, কালোবাজারি বা জুলুমের মাধ্যমে উপার্জনকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়" (সহিহ মুসলিম)। রাজিব সাহেব অসৎ উপায় অবলম্বন করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা পুরোপুরি হারাম ও নীতিবহির্ভূত।

    অসৎ উপার্জনের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. বরকতহীনতা ও ইবাদত কবুল না হওয়া: হারাম উপার্জনে রিজিকে কোনো বরকত থাকে না। হারাম খাদ্যে গঠিত শরীর দিয়ে কোনো ইবাদত বা দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
    ২. সামাজিক বৈষম্য ও অশান্তি: অসৎ উপায়ে সম্পদ কুক্ষিগত করার ফলে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ে। ধনী আরও ধনী হয় এবং গরিব নিঃস্ব হয়, যা সমাজে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা উসকে দেয়।
    ৩. নৈতিক অবক্ষয়: অসৎ পথ ব্যক্তিকে লোভী ও বিবেকহীন করে তোলে, ফলে মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস হয়ে যায়।
    ৪. আখেরাতে কঠিন শাস্তি: হারাম পন্থায় সম্পদ অর্জনকারীর জন্য পরকালে রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।

    সুতরাং, রাজিব সাহেবের অনুসৃত পদ্ধতি ব্যক্তি ও সমাজ উভয় জীবনের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন