অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
চিত্রটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
CPI এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ছেদবিন্দু E, থেকে E₂ তে পরিবর্তনের কারণগুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কী ভূমিকা রাখতে পারে—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
CPI-এর পূর্ণরূপ হলো Consumer Price Index (ভোক্তা মূল্য সূচক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাবাদী অর্থনীতিবিদ মিল্টন ফ্রিডম্যানের মতে, "মুদ্রাস্ফীতি সর্বদাই এবং সর্বত্রই একটি আর্থিক ঘটনা।" অর্থনীতিতে মোট উৎপাদন বা দ্রব্যের জোগানের তুলনায় যখন অর্থ সরবরাহ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, তখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বা মোট চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পকালে উৎপাদন ও পণ্যের জোগান তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় না। ফলে অতিরিক্ত অর্থের পেছনে স্বল্প পরিমাণ দ্রব্য থাকায় দ্রব্যের দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধিকে মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম মূল কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে জাতীয় আয় (Y) এবং লম্ব অক্ষে সামগ্রিক দামস্তর (P) নির্দেশ করা হয়েছে। এখানে AS হলো পূর্ণনিয়োগ স্তরের উল্লম্ব সামগ্রিক জোগান রেখা এবং AD₁ ও AD₂ হলো দুটি পৃথক সামগ্রিক চাহিদা রেখা। প্রাথমিক ভারসাম্য বিন্দু E₁ থেকে নতুন ভারসাম্য বিন্দু E₂-তে স্থানান্তরের মূল কারণ হলো সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং একই সাথে সামগ্রিক জোগান স্থির থাকা (চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি)।
ছেদবিন্দু E₁ থেকে E₂ তে পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি: অনুৎপাদনশীল খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে জনগণের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সামগ্রিক চাহিদা রেখা ডানদিকে (AD₁ থেকে AD₂) স্থানান্তরিত হয়।
২. অর্থের সরবরাহ ও ঋণের বিস্তার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক অতিরিক্ত মুদ্রা ছাপানো বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ফলে জনগণের হাতে নগদ অর্থ বাড়ে এবং চাহিদা বাড়ে।
৩. জনসংখ্যা বৃদ্ধি: জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিক ভোগব্যয় ও দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
৪. কর হ্রাস বা ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধি: সরকার প্রত্যক্ষ কর হ্রাস করলে মানুষের ব্যয়যোগ্য আয় বাড়ে, ফলে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পায়।যেহেতু অর্থনীতি পূর্ণনিয়োগ স্তরে থাকায় জোগান (Y₁) স্থির থাকে, তাই সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির চাপে দামস্তর P₁ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে P₂ হয় এবং ভারসাম্য বিন্দু E₁ থেকে E₂-তে পরিবর্তিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতিটি হলো চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-Pull Inflation), যেখানে পূর্ণনিয়োগ অবস্থায় সামগ্রিক চাহিদা (AD) বৃদ্ধির কারণে দামস্তর P₁ থেকে P₂-তে উন্নীত হয়েছে। এ ধরনের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার রাজস্ব নীতি (Fiscal Policy), প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক নীতি গ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে:
১. সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতি (Contractionary Fiscal Policy) গ্রহণ:
- সরকারি ব্যয় হ্রাস: সরকার অনুৎপাদনশীল উন্নয়ন প্রকল্প ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করতে পারে। এতে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পেয়ে AD রেখা বামদিকে সরে আসবে।
- কর বৃদ্ধি: সরকার জনগণের ওপর প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি করতে পারে। কর বৃদ্ধি পেলে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস পাবে, যা ব্যক্তিগত ভোগব্যয় কমিয়ে সামগ্রিক চাহিদা কমাতে সাহায্য করবে।
- অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ: সরকার জনগণের কাছ থেকে বন্ড, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করে বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য তুলে নিতে পারে।
২. উৎপাদন ও জোগান বৃদ্ধি: পূর্ণনিয়োগ অতিক্রম করার পর দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে AS রেখা ডানদিকে সম্প্রসারণ করে দামস্তর নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা যায়।
৩. আর্থিক নীতির সহায়তা (কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে): সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক হার বৃদ্ধি, খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রয় এবং জমার অনুপাত (CRR/SLR) বাড়িয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।
৪. সরাসরি মূল্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দেওয়া এবং কালোবাজারি ও মজুতদারি রোধে প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতি এবং আর্থিক নীতির যথাযথ সমন্বয় সাধনই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও