জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ফারিনের হাত আপেল কাটতে গিয়ে কেটে গেল। এর ফলে সেখান থেকে লাল তরল পদার্থ বের হল । এতে এক ধরনের Y আকৃতির জৈব রাসায়নিক পদার্থ আছে যা তার দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।

  1. ক)

    ইন্টারফেরন কী?

    (1)
  2. খ)

    Rh ফ্যাক্টর বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ফারিনের লাল তরল পদার্থ বন্ধ হওয়ার কৌশল ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগ প্রতিরোধী উপাদানের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাইরাস বা অন্যান্য রোগজীবাণু দ্বারা আক্রান্ত কোষ থেকে ক্ষরিত ক্ষুদ্র গ্লাইকোপ্রোটিন অণু, যা আশেপাশের সুস্থ কোষকে ভাইরাসের আক্রমণ ও বিস্তার থেকে রক্ষা করে, তাকে ইন্টারফেরন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রেসাস (Rhesus) বানরের লোহিত রক্তকণিকায় বিদ্যমান এক প্রকার বিশেষ অ্যান্টিজেন মানুষের লোহিত কণিকায় উপস্থিত থাকলে তাকে Rh ফ্যাক্টর বা Rh অ্যান্টিজেন বলে। লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে এই অ্যান্টিজেন থাকলে রক্তকে Rh পজিটিভ (Rh+) এবং না থাকলে Rh নেগেটিভ (Rh-) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। রক্ত সঞ্চালন ও গর্ভধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা (যেমন- এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস) এড়াতে Rh ফ্যাক্টর নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফারিনের কেটে যাওয়া স্থান থেকে বের হওয়া লাল তরল পদার্থটি হলো রক্ত। রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো রক্ত তঞ্চন (Blood Clotting)। এর কৌশল নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. অণুচক্রিকার সক্রিয়করণ ও থ্রম্বোপ্লাস্টিন তৈরি: কেটে যাওয়া স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালী ও বাতাসের সংস্পর্শে এসে অণুচক্রিকাগুলো ভেঙে যায় এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক লিপোপ্রোটিন এনজাইম নিঃসরণ করে।

    ২. প্রোথ্রম্বিন থেকে থ্রম্বিন উৎপাদন: ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca²⁺)-এর উপস্থিতিতে থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তের নিষ্ক্রিয় প্লাজমা প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনকে সক্রিয় এনজাইম থ্রম্বিনে রূপান্তর করে।

    ৩. ফাইব্রিন জালক সৃষ্টি: সক্রিয় থ্রম্বিন দ্রবণীয় প্লাজমা প্রোটিন ফাইব্রিনোজেনকে অদ্রবণীয় ফাইব্রিন মনোমারে পরিণত করে। এগুলো দ্রুত পলিমার গঠন করে এবং সুতার মতো একটি ফাইব্রিন জালক তৈরি করে।

    ৪. রক্ত জমাট বাঁধা: ফাইব্রিন জালকের ফাঁকে লোহিত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা আটকে যায়। ফলে একটি নরম তঞ্চনপিণ্ড (clot) তৈরি হয় এবং ক্ষতস্থান বন্ধ হয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। পরবর্তীতে এটি সংকুচিত হয়ে শক্ত জমাট বাঁধে এবং রক্তরস থেকে হালকা হলুদ তরল সিরাম নিঃসৃত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত Y আকৃতির জৈব রাসায়নিক রোগ প্রতিরোধী উপাদানটি হলো অ্যান্টিবডি (ইমিউনোগ্লোবুলিন)। এটি দেহের অর্জিত অনাক্রম্যতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে অ্যান্টিবডির প্রধান কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সরাসরি আক্রমণ (Direct attack):

    • অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): অ্যান্টিবডি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনযুক্ত বহিরাগত অণুজীবগুলোকে দলবদ্ধ বা গুচ্ছবদ্ধ করে ফেলে, যাতে তারা নিষ্ক্রিয় হয় এবং ফ্যাগোসাইটের মাধ্যমে সহজে ধ্বংস হতে পারে।
    • প্রিসিপিটেশন (Precipitation): অ্যান্টিবডি দ্রবণীয় অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অদ্রবণীয় জটিল যৌগ গঠন করে তলানি ফেলে, যা সহজে বিনষ্ট হয়।
    • নিউট্রালাইজেশন (Neutralization): ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন) বা ভাইরাসের সংক্রমণ অংশকে অ্যান্টিবডি আবৃত করে নিষ্ক্রিয় বা প্রসমিত করে দেয়।
    • লাইসিস (Lysis): কিছু অ্যান্টিবডি জীবাণুর কোষঝিল্লি সরাসরি বিদীর্ণ বা ধ্বংস করে তাকে মেরে ফেলে।

    ২. কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম সক্রিয়করণ:
    অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে কমপ্লিমেন্ট প্রোটিনসমূহকে সক্রিয় করে। এই সক্রিয় সিস্টেম জীবাণু কোষের লাইসিস ঘটায়, প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ফ্যাগোসাইটোসিসকে ত্বরান্বিত করে।

    ৩. অপসোনাইজেশন (Opsonization):
    অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের পৃষ্ঠে আবরণ তৈরি করে জীবাণুকে চিহ্নিত বা সুস্বাদু করে তোলে, যার ফলে ফ্যাগোসাইটিক কোষগুলো (ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল) অতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে জীবাণুটিকে গ্রাস করে ধ্বংস করে।

    সুতরাং, অ্যান্টিবডি সরাসরি জীবাণুকে নিষ্ক্রিয়করণ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক উপাদানের সহায়তায় মানবদেহকে রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন