অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. X-এর উৎপাদন প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভালো মুনাফা করেছে। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তিনি মুনাফার ১০% হাতে রেখেছেন। সাভারের একটি প্লট বিক্রয়ের অর্থও ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। এই পরিমাণ পুঁজি যথেষ্ট না হওয়ায় তিনি সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে তার প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকাভুক্ত করেন। তিনি এ বছর সেখান থেকে ৫০০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেন। এই অর্থ প্রাপ্তি তার জন্য ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছে। একটি ব্যাংকের স্থানীয় শাখার সাথেও তার লেনদেন রয়েছে।
- ক)(1)
শেয়ার কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের সম্ভবনাময় অর্থনৈতিক খাতগুলোর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাত লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের জন্য কোন কোন উৎস ব্যবহৃত হয়েছে ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে অন্যান্য উৎসের তুলনায় পুঁজিবাজার অধিক সুবিধাজনক কি না উদ্দীপকের ভিত্তিতে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌথ মূলধনী কোম্পানির মোট মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান অংশকে শেয়ার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাতগুলোর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো:
১. তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত: যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাত: সফটওয়্যার রপ্তানি, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দ্রুত বিকাশমান এবং বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী মি. X-এর প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক—উভয় ধরনের উৎস ব্যবহৃত হয়েছে। উৎসগুলো নিম্নরূপ:
১. অভ্যন্তরীণ উৎস (Internal Sources):
ক. অবণ্টিত মুনাফা/সঞ্চিতি: তিনি প্রতিষ্ঠানের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ভালো মুনাফা থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মুনাফার ১০% হাতে রেখে তা ব্যবসায় পুনর্বিনিয়োগ করেছেন।
খ. মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয়: মি. X তাঁর সাভারের একটি নিজস্ব প্লট বিক্রি করে সেই অর্থ ব্যবসায় মূলধন হিসেবে যোগান দিয়েছেন।২. বাহ্যিক উৎস (External Sources):
ক. পুঁজিবাজার/শেয়ার বাজার (Securities Market): নিজস্ব অর্থ যথেষ্ট না হওয়ায় তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে তালিকাভুক্ত করে পুঁজিবাজার থেকে সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ করেন।
খ. ব্যাংক বা অর্থবাজার (Banking System): উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, একটি ব্যাংকের স্থানীয় শাখার সাথেও প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদি ও চলতি মূলধন অর্থায়নের উৎস নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, বড় আকারের দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে অন্যান্য উৎসের তুলনায় পুঁজিবাজার অধিক সুবিধাজনক—উদ্দীপকের ভিত্তিতে আমি এই মতামতের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. X নিজস্ব মুনাফার অংশ এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয় করেও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহ করতে পারেননি। অতঃপর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সহজেই ৫০০ কোটি টাকার সুবিশাল মূলধন সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
পুঁজিবাজার অন্যান্য উৎসের তুলনায় অধিক সুবিধাজনক হওয়ার কারণগুলো হলো:
১. সুদবিহীন মূলধন: ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে বাধ্যতামূলক সুদ পরিশোধ করতে হয়, যা ব্যবসায়ের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের বিপরীতে কোনো নির্দিষ্ট সুদ দিতে হয় না; বরং মুনাফা হলে লভ্যাংশ বণ্টন করা হয়।
২. দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের নিশ্চয়তা: ব্যাংক মূলত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ দেয়, যা নির্দিষ্ট মেয়াদে ফেরত দিতে হয়। কিন্তু পুঁজিবাজারে শেয়ারের অর্থ কোম্পানি বিলোপ সাধনের পূর্বে মূলধন হিসেবে স্থায়ীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, ফলে ঋণ পরিশোধের তাৎক্ষণিক চাপ থাকে না।
৩. বিপুল পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ: কোনো একক ব্যাংক বা মালিকের পক্ষে ৫০০ কোটি টাকার মতো বড় তহবিল যোগান দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সাধারণ জনগণের সঞ্চয় একত্রিত করে পুঁজিবাজার থেকে সহজেই এ ধরনের বড় মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভব।সুতরাং, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বৃহৎ শিল্পায়নে আর্থিক ঝুঁকি কমিয়ে স্থায়ী মূলধন সংস্থানের জন্য পুঁজিবাজার অন্যান্য উৎসের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক ও কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও