সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সহপাঠ প্রশ্ন
বিপ্লবী সূর্যসেন নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। শত্রু বিশাল শক্তি এবং চারপাশের বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি। সরকারের ঘোষিত পুরস্কারের লোভে প্রতিবেশী নেত্রসেন তাঁকে ধরিয়ে দিলেও ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠে ছিল দেশের মুক্তির গান। নিজের জীবনের চেয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতাকেই তিনি বড় করে দেখেছিলেন।
- ক)(1)
“আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।” — উক্তিটি কার?
- খ)(2)
“আমাদের মাঝখানে একটি রাজত্বের দেয়াল।” — মর্মার্থ তুলে ধর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের নেত্রসেন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? কীভাবে?
- ঘ)(4)
“প্রেক্ষাপট ও সময়কাল ভিন্ন হলেও সূর্যসেন এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়েই দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” — মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।” — উক্তিটি উমিচাঁদের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা সিরাজউদ্দৌলা ও ঘসেটি বেগমের সম্পর্কের মাঝে ক্ষমতার রাজনীতি ও সিংহাসন লাভের অন্তরায়কে নির্দেশ করা হয়েছে।
ঘসেটি বেগম নবাব আলীবর্দী খাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং সম্পর্কে সিরাজউদ্দৌলার খালা। পারিবারিক সম্পর্কের দিক দিয়ে তিনি সিরাজের অত্যন্ত আপনজন হলেও তাঁর মনে ছিল মসনদ দখলের তীব্র মোহ। তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য ইংরেজদের সঙ্গে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। পারিবারিক স্নেহ-মমতার চেয়ে রাজক্ষমতার দ্বন্দ্ব তাদের মাঝে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর সৃষ্টি করেছিল বলেই নবাব আক্ষেপ করে কথাটি বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নেত্রসেন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চরম বিশ্বাসঘাতক চরিত্র মীরজাফর ও উমিচাঁদের (বিশেষত নিজের স্বার্থ ও অর্থের লোভে স্বদেশ ও নেতার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার দিক থেকে মীরজাফর/উমিচাঁদ)-এর সঙ্গে তুলনীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিপ্লবী সূর্যসেনের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী নেত্রসেন সামান্য অর্থ ও পুরস্কারের লোভে সূর্যসেনকে ব্রিটিশ সরকারের হাতে ধরিয়ে দেয়। স্বজাতীয় হয়েও ব্যক্তিগত প্রাপ্তির আশায় সে স্বদেশ ও মহান নেতার সঙ্গে বেইমানি করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায়, নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ক্ষমতার লোভে এবং উমিচাঁদ বিপুল পরিমাণ অর্থের লোভে নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে চক্রান্ত করে। নেত্রসেন যেমন অর্থের লোভে দেশপ্রেমিক সূর্যসেনকে শত্রুর হাতে তুলে দেয়, তেমনি উমিচাঁদ ও মীরজাফর ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য স্বদেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বাংলাকে ইংরেজদের গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। সুতরাং, লোভের বশবর্তী হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করার দিক থেকে নেত্রসেনের আচরণ নাটকের মীরজাফর ও উমিচাঁদ চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“প্রেক্ষাপট ও সময়কাল ভিন্ন হলেও সূর্যসেন এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়েই দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” — মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের বিপ্লবী সূর্যসেন বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের হাত থেকে পরাধীন ভারতকে মুক্ত করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। শত্রুর বিশাল শক্তি ও চারপাশের বিশ্বাসঘাতকতা অগ্রাহ্য করে তিনি মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চকে বরণ করে নেন।
অন্যদিকে, সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন আঠারো শতকের বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। ইংরেজদের আগ্রাসী মনোভাব ও নিজের ঘনিষ্ঠ পারিষদদের চরম ষড়যন্ত্রের মুখেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য লড়ে গেছেন। পলাশীর প্রান্তরে এবং তার পরবর্তী সময়েও তিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, বরং দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
উদ্দীপকের সূর্যসেন এবং নাটকের সিরাজউদ্দৌলার লড়াইয়ের ক্ষেত্র এবং ঐতিহাসিক সময় ভিন্ন হলেও তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল এক—মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। উভয়েই নিজ জীবনের সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার বিষবাষ্পের মধ্যে লড়াই করেছেন এবং দেশের জন্য চরম আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই বলা যায়, দেশপ্রেমের মূল সুর এবং আত্মদানের বিবেচনায় তাঁরা উভয়েই অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও