বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নাইকো এখানে কালা ও ধলার আলাদা গির্জা-ঘর, নাইকো পাইক-বরকন্দাজ নাই পুলিশের ডর।এই সেই স্বর্গ, এই সেই বেহেস্ত, এখানে বিভেদ নাই, যত হাতাহাতি হাতে হাত রেখে মিলিয়াছে ভাই ভাই!নাইকো এখানে ধর্মের ভেদ শাস্ত্রের কোলাহল, পাদরি-পুরুত-মোল্লা-ভিক্ষু এক গ্লাসে খায় জল।
- ক)(1)
দেউল শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"দোকানে কেন এ দর কষাকষি? পথে ফোটে তাজা ফুল।"- পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'সাম্যবাদী' কবিতার যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে, তার পরিচয় দাও।
- ঘ)(4)
"পাদরি-পুরুত-মোল্লা-ভিক্ষু এক গ্লাসে খায় জল।"- এই উক্তির আলোকে 'সাম্যবাদী' কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দেউল' শব্দের অর্থ দেবালয় বা মন্দির।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"দোকানে কেন এ দর কষাকষি? পথে ফোটে তাজা ফুল।"- পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, পরম সত্য বা ঈশ্বর মানুষের হৃদয়ের মাঝেই প্রস্ফুটিত অবস্থায় বিরাজমান; অথচ মানুষ বৃথাই বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে তাঁর সন্ধান করে দর-কষাকষি করছে। কবি মানব হৃদয়কে একটি পবিত্র ও জীবন্ত স্থান বলে মনে করেন। বাইরে কৃত্রিম উপায়ে ঈশ্বর খোঁজার চেষ্টা নিরর্থক, কারণ সত্যের সহজ ও সুন্দর প্রকাশ তো নিজের অন্তরেই সহজলভ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'সাম্যবাদী' কবিতার অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ভেদাভেদহীন মানবপ্রেম ও সাম্যের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, জাতি-ধর্ম-বর্ণের কৃত্রিম প্রাচীর ভেঙে মানুষের হৃদয়ের মিলনই সবচেয়ে বড় সত্য। যেখানে সব মানুষ ভাই ভাই হিসেবে পরস্পরের পাশে দাঁড়াবে, সেখানেই গড়ে ওঠে প্রকৃত তীর্থস্থান।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, কালা-ধলা কিংবা নানা ধর্মের কোনো কৃত্রিম বিভেদ নেই। পাদরি, পুরুত, মোল্লা ও ভিক্ষু সবাই একত্রে এক গ্লাসে জল পান করার মতো ভাতৃত্ব ও সাম্যের বাতাবরণ তৈরি করেছে। ধর্মের সকল আচারগত কোলাহল অতিক্রম করে এই যে অসাম্প্রদায়িক মানবিক মেলবন্ধন, তা 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল ভাবের সাথে চমৎকারভাবে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত উক্তিটি 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল দর্শন—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বজনীন সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক হওয়ায় কবিতাটির নামকরণের সার্থকতাকে পূর্ণতা দেয়।
কোনো সাহিত্যের নামকরণ তার মূল বিষয়বস্তু বা অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের ওপর নির্ভর করে। 'সাম্যবাদী' কবিতায় কবি সমাজের সকল প্রকার বৈষম্য, বর্ণভেদ এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে মানবতাকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। কবির কাছে মানুষের হৃদয়ই শ্রেষ্ঠ দেউল ও তীর্থক্ষেত্র। সেখানে সব মানুষের স্থান সমান।
উদ্দীপকের চরণ "পাদরি-পুরুত-মোল্লা-ভিক্ষু এক গ্লাসে খায় জল" মূলত সেই সাম্যবাদী সমাজেরই রূপরেখা তুলে ধরে, যেখানে কোনো শ্রেণিভেদ বা ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব-হীনমন্যতার স্থান নেই। বিভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের ব্যক্তিরা যেখানে কোনো প্রাচীর ছাড়াই একসাথে মিলিত হতে পারে, সেটাই প্রকৃত সাম্য। 'সাম্যবাদী' কবিতাতেও কবি এই মানবসাম্যের জয়গান গেয়েছেন। সুতরাং, প্রশ্নোক্ত উক্তির প্রতিফলন ঘটিয়ে মানবতার জয়গান এবং বৈষম্যহীন পৃথিবীর প্রত্যাশা প্রকাশ করায় কবিতাটির 'সাম্যবাদী' নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও যথার্থ হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও