‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে 'Z' নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুসরণ করে-i. আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নীতি।ii. স্বাধীন ও জোট নিরপেক্ষ নীতি।iii. পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্ব।

  1. ক)

    সার্কের সর্বশেষ সদস্য রাষ্ট্রের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈদেশিক নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির। সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে- তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সার্কের (SAARC) সর্বশেষ বা অষ্টম সদস্য রাষ্ট্রের নাম আফগানিস্তান (যোগদান: ২০০৭ সাল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণে যে নীতি, কৌশল ও কর্মপন্থা গ্রহণ করে, তাকে বৈদেশিক নীতি বা পররাষ্ট্রনীতি (Foreign Policy) বলে। অধ্যাপক নরম্যান এল. হিল-এর মতে, বৈদেশিক নীতি হলো এমন সব নীতি ও কর্মপন্থা, যার মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্র অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও পরিচালনা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'Z' রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যের সাথে আমাদের দেশ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন সংক্রান্ত সুস্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ঘোষিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করবে এবং জাতিসংঘ সনদ অনুসারে বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার নীতি অনুসরণ করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষিত নীতি— "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়" (Friendship to all, malice towards none)।

    উদ্দীপকের 'Z' রাষ্ট্রটিও আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা রক্ষা, স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ এবং বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। বাংলাদেশও ১৯৭২ সাল থেকেই জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM)-এর সক্রিয় সদস্য এবং সার্ক ও বিমসটেকসহ আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সংস্থায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলি স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ রাষ্ট্র অর্থাৎ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে— আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত।

    প্রথমত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হলো "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়"। এই মূলনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগ্রাসন, আধিপত্যবাদ কিংবা সামরিক জোটের বিরোধিতা করে পারস্পরিক সহাবস্থান এবং সহযোগিতার বাতাবরণ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ কোনো সামরিক জোটে বিশ্বাসী নয়; বরং জোটনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সংবিধানে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি ও সমুদ্রসীমা বিরোধের ন্যায়সঙ্গত মীমাংসা করেছে, যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক। এছাড়া বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

    তৃতীয়ত, আঞ্চলিক সংহতি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সার্কের উদ্যোক্তা এবং বিমসটেক ও অন্যান্য সংস্থায় সক্রিয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং মানবিক সংকট নিরসনে (যেমন: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান) বাংলাদেশের নীতি আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।

    অতএব, বিরোধ পরিহার, মানবাধিকার রক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে ভিত্তি করে পরিচালিত বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি নিঃসন্দেহে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক ব্যাপক ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন