বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শহিদের পুণ্য রক্তে সাত কোটি বাঙালির প্রাণের আবেগ আজ পুষ্পিত সৌরভ। বাংলার নগর, বন্দর, গঞ্জ, বাষট্টি হাজার গ্রাম ধ্বংসস্তূপের থেকে সাত কোটি ফুল হয়ে ফোটে। প্রাণময় মহৎ কবিতা আর কোথাও দেখি না এর চেয়ে।
- ক)(1)
কৃষ্ণচূড়া কীসের প্রতীক?
- খ)(2)
বিপরীত চেতনা বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটির সাথে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কোন চেতনার সাথে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটির কবি এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবির চেতনা একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শামসুর রাহমানের 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কৃষ্ণচূড়া শহিদের আত্মদানের স্মৃতি এবং বাঙালির অবিনাশী সংগ্রামী চেতনার প্রতীক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিপরীত চেতনা' বলতে কবি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া স্বৈরাচার, বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদী, প্রগতিশীল ও সংগ্রামী দেশপ্রেমের চেতনাকে বুঝিয়েছেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের ওপর চরম নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে তাদের পদানত রাখতে চেয়েছিল। ঘাতকের এই অমানবিক ও ধ্বংসাত্মক রূপের বিপরীতে দাঁড়িয়েছিল বাঙালির একতাবদ্ধ আত্মত্যাগ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়ের মুখে বাঙালির এই অটল জাতীয়তাবাদী ও দ্রোহের মনোভাবকেই কবি 'বিপরীত চেতনা' বলে অভিহিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটির সাথে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার শহিদের রক্তে অর্জিত সংগ্রামী চেতনা এবং গণজাগরণের অনুভূতির গভীর মিল রয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান দেখিয়েছেন কীভাবে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের রক্তদান ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে এসে এক অবিরাম প্রেরণা হয়ে উঠেছে। শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে রক্তধারা রাজপথে মিশেছে, তা বাংলার আকাশে-বাতাসে যেন কৃষ্ণচূড়ার রঙের মতো ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র জাতিকে অধিকার আদায়ে উজ্জীবিত করেছে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, শহিদদের পুণ্য রক্তের বিনিময়ে সাত কোটি বাঙালির প্রাণের আবেগ আজ পুষ্পিত সৌরভের মতো প্রস্ফুটিত হয়েছে। বাংলার আনাচে-কানাচে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই জেগে উঠেছে প্রাণের নবজাগরণ। উদ্দীপকের শহিদের রক্ত থেকে দেশপ্রেম ও আত্মজাগরণের এই যে পুষ্পিত রূপের বিকাশ, তা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত সংগ্রামী চেতনার সাথেই সম্পূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটির কবি এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবির চেতনা একসূত্রে গাঁথা"—মন্তব্যটি যথার্থ।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান ১৯৫২ সালের মহান ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগকে ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের পটভূমিতে তুলে ধরেছেন। বরকত, সালামের আত্মদান কীভাবে সমগ্র জাতির মধ্যে বিপ্লবী চেতনার জন্ম দিয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাধিকার আন্দোলনের ঢেউ তুলেছিল, তা কবিতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। রক্তদানের মধ্য দিয়েই বাঙালি তার আত্মপরিচয় ও সংগ্রামী অস্তিত্বকে খুঁজে পেয়েছে।
উদ্দীপকেও শহিদদের আত্মত্যাগের মহিমা ও সেখান থেকে উৎসারিত প্রাণশক্তির জয়গান গাওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের কবির দৃষ্টিতে শহিদদের পুণ্য রক্তেই পুরো বাঙালি জাতি আজ এক হয়ে জেগে উঠেছে, যা নগর-বন্দর ও গ্রামের ধ্বংসস্তূপ থেকে সাত কোটি ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে মহৎ কাব্যের সৃষ্টি করেছে।
উভয় কবির মূল সুর এক ও অভিন্ন—শহিদদের রক্তদান বৃথা যায় না; বরং তা জাতির মাঝে প্রতিবাদের সাহস ও স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। একাত্তরের কিংবা ঊনসত্তরের রক্তঝরা পথ বেয়ে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, উভয় সাহিত্যিকই তাকে পরম শ্রদ্ধায় উপলব্ধি করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবি এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবির অনুভূতি, আত্মত্যাগের মূল্যায়ন ও দেশপ্রেমের চেতনা একই সূত্রে গ্রথিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও