ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
অগ্রগতি' নামে একটি লঞ্চ পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। লঞ্চটির মালিক লঞ্চটির মূল্য ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বিমা করেছিলেন। লঞ্চটির মালিক বিমা দাবি পেশ করেন। বিমা প্রতিষ্ঠান দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়। উদ্ধারকৃত লঞ্চটি বিমা প্রতিষ্ঠান দাবি করায় লঞ্চ মালিক তা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তীতে তা দিতে বাধ্য হয়।
- ক)(1)
বিমা কী?
- খ)(2)
বিমাযোগ্য স্বার্থ বিমা ব্যবসায়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বিমাগ্রহীতা কোন প্রকার নৌ বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরেও লঞ্চ মালিকের উদ্ধারকৃত লঞ্চ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি যৌক্তিক ছিল কি? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা হলো নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে এক পক্ষ (বিমাকারী) কর্তৃক অপর পক্ষকে (বিমাগ্রহীতা) ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণের বা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের লিখিত প্রতিশ্রুতির চুক্তি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাযোগ্য স্বার্থ বলতে বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার এমন এক আর্থিক বা আইনগত স্বার্থকে বোঝায়, যার অস্তিত্বে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে লাভবান হন এবং এর ক্ষতি বা ধ্বংসের ফলে তিনি সরাসরি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিমা ব্যবসায়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিমাযোগ্য স্বার্থ না থাকলে বিমা চুক্তি জুয়া বা বাজির চুক্তিতে পরিণত হয় এবং আইনগতভাবে তা বাতিল বলে গণ্য হয়। নৈতিক ঝুঁকি হ্রাস ও বিমা চুক্তির আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য বিমাযোগ্য স্বার্থ অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বিমাগ্রহীতা নৌ বিমার আওতাভুক্ত 'হল বিমাপত্র' (Hull Policy) গ্রহণ করেছিলেন। জাহাজের কাঠামো, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য উপাদান বা নৌযানটির নিজ সত্তার সুরক্ষার জন্য যে বিমাপত্র খোলা হয়, তাকে হল বিমাপত্র বলা হয়। উদ্দীপকে লঞ্চটির মালিক তার 'অগ্রগতি' নামের লঞ্চটির নিজস্ব মূল্য ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বিমা করেছিলেন। যেহেতু এখানে মালামাল বা ভাড়ার বিমা না করে লঞ্চটির কাঠামোগত সুরক্ষার জন্য বিমা করা হয়েছিল, তাই এটি একটি হল বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর লঞ্চ মালিকের উদ্ধারকৃত লঞ্চ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো যৌক্তিক ছিল না। বিমা আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো 'স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি' (Doctrine of Subrogation)। এ নীতি অনুযায়ী, বিমাকৃত সম্পত্তির সম্পূর্ণ ক্ষতি সাধিত হওয়ার পর বিমাকারী যদি বিমাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বা উদ্ধারকৃত সম্পত্তির অবশিষ্ট অংশের ওপর যাবতীয় মালিকানা স্বত্ব সরাসরি বিমা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বর্তায়। উদ্দীপকে 'অগ্রগতি' লঞ্চটি পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার পর বিমা প্রতিষ্ঠান দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে মালিককে সম্পূর্ণ ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করে। ফলে স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি অনুযায়ী উদ্ধারকৃত লঞ্চটির মালিকানা বিমা প্রতিষ্ঠানের হয়ে যায়। লঞ্চের মালিক একই সাথে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং উদ্ধারকৃত সম্পদ নিজের কাছে রেখে দ্বৈত সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। সুতরাং, উদ্ধারকৃত লঞ্চটি বিমা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করতে মালিকের অস্বীকৃতি সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক ও আইনপরিপন্থী ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও