যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: বাবুর্চি সেলিম মিয়া শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, আলু ও মিষ্টি কুমড়ার সমন্বয়ে 'পাঁচ মিশালী সবজি' রান্না করলো। দৃশ্যকল্প-২: তুহিন শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য ট্রাউজার, গেঞ্জি, সোয়েটার, চাদর ও মাফলার দ্বারা নিজেকে আবৃত করলো।দৃশ্যকল্প-৩: সালেহা বেগম তার ছেলের জন্য ছানা, চিনি ও ময়দার মিশ্রণে অত্যন্ত সুস্বাদু মিষ্টি তৈরি করলেন।
- ক)(1)
প্রকৃত আরোহ কাকে বলে?
- খ)(2)
আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কার্য সংমিশ্রণের আলোকে দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর মধ্যে পার্থক্য করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহমূলক লম্ফ হলো জানা থেকে অজানায়, নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে কিংবা বিশেষ থেকে সার্বিকে উত্তরণের একটি প্রক্রিয়া বা মানসিক উল্লম্ফন। আরোহানুমানের মূল উদ্দেশ্যই হলো বিশেষ কিছু দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত বা নিয়মে পৌঁছানো। এই উত্তরণ বা লম্ফ ছাড়া আরোহের প্রকৃত সিদ্ধান্ত গঠিত হতে পারে না। তাই যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বা মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ যুক্তিবিদ্যার 'কার্য সংমিশ্রণ' (Intermixture of Effects) বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।
যখন একাধিক কারণ স্বতন্ত্রভাবে কাজ না করে একত্রে ক্রিয়াশীল হয়ে একটি মিশ্র কার্য উৎপন্ন করে, তখন তাকে কার্য সংমিশ্রণ বলে। সাধারণত একটি কারণ থেকে একটি কার্য উৎপন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায় বহুবিধ কারণ একত্রে মিলিত হয়ে একটি যৌথ কার্যের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বাবুর্চি সেলিম মিয়া শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, আলু ও মিষ্টি কুমড়ার মতো একাধিক উপকরণ বা কারণকে একত্রে সমন্বিত করে একটি একক ব্যঞ্জন বা 'পাঁচ মিশালী সবজি' তৈরি করেছেন। এখানে প্রতিটি সবজি একেকটি উপাদান/কারণ এবং তাদের সমন্বিত রূপটি হলো একটি যৌগিক কার্য। একাধিক উপাদানের একত্রে মিলিত হয়ে অভিন্ন কার্য উৎপাদনের এই প্রক্রিয়াটি যুক্তিবিদ্যার কার্য সংমিশ্রণের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্য সংমিশ্রণের আলোকে দৃশ্যকল্প-২ এবং দৃশ্যকল্প-৩ যথাক্রমে 'সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ' এবং 'বিষমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ' এর নির্দেশক। নিচে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: দৃশ্যকল্প-২ এ তুহিন শীত নিবারণের জন্য ট্রাউজার, গেঞ্জি, সোয়েটার, চাদর ও মাফলার ব্যবহার করেছে। এখানে প্রতিটি পোশাক স্বতন্ত্রভাবে উষ্ণতা প্রদান করে এবং একত্রে এগুলো উষ্ণতার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে, যা সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণ (Homogeneous Intermixture of Effects)। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-৩ এ ছানা, চিনি ও ময়দা মিশিয়ে মিষ্টি তৈরি করা হয়েছে। এখানে উপাদানগুলোর রাসায়নিক সংমিশ্রণে মূল উপাদানের বৈশিষ্ট্য হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন বৈশিষ্ট্যের মিষ্টি তৈরি হয়েছে, যা বিষমজাতীয় বা রাসায়নিক কার্য সংমিশ্রণ (Heterogeneous Intermixture of Effects)।
২. কার্যের প্রকৃতি: সমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণে (দৃশ্যকল্প-২) কারণগুলোর পৃথক ফল একত্রিত হয়ে একটি সমষ্টিগত ফল প্রদান করে, অর্থাৎ উপাদানগুলোর ধর্মের কোনো গুণগত পরিবর্তন হয় না, কেবল পরিমাণের বৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু বিষমজাতীয় কার্য সংমিশ্রণে (দৃশ্যকল্প-৩) উপাদানগুলো পরস্পরের সাথে এমনভাবে বিক্রিয়া করে যে তাদের আদি বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ গুণগত নতুন কার্য উৎপন্ন হয়।
৩. উপাদান পৃথকীকরণ: দৃশ্যকল্প-২ এর প্রতিটি পোশাককে বা কারণকে খুব সহজেই আলাদাভাবে চিহ্নিত ও পরিমাপ করা যায়। কিন্তু দৃশ্যকল্প-৩ এর মিষ্টি থেকে ছানা, চিনি কিংবা ময়দাকে সহজে আলাদা করা যায় না কারণ সেগুলো অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে গেছে।
অতএব, দৃশ্যকল্প-২ সমজাতীয় বা যান্ত্রিক কার্য সংমিশ্রণ এবং দৃশ্যকল্প-৩ বিষমজাতীয় বা রাসায়নিক কার্য সংমিশ্রণকে নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও