পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
নাইমা রহমান প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করার সময় কিছু খারাপ ছেলেদের আজেবাজে কথার দ্বারা হ্যারানির শিকার হয়। নাইমা রহমান তার ভাইকে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন তার ভাই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই ঘটনার জন্য নাইমা রহমান এর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন পর খারাপ ছেলেগুলোকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং নাইমা রহমান আবার পড়ালেখা শুরু করে।
- ক)(1)
অটিজম কী?
- খ)(2)
নিরাপদ খাদ্য বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে নাইমা রহমান কোন ধরনের অপরাধের শিকার হয়েছে?ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সমস্যা সমাধানে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অটিজম হলো শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত একটি জটিল স্নায়বিক বা নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সমস্যা, যার ফলে সামাজিক যোগাযোগ, আচরণ ও পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরাপদ খাদ্য বলতে এমন খাদ্যকে বোঝায় যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং যাতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, বিষাক্ত উপাদান, ভেজাল, জীবাণু বা অতিরিক্ত মাত্রার কীটনাশক থাকে না। নিরাপদ খাদ্য মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটায় এবং রোগমুক্ত জীবনযাপনে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নাইমা রহমান 'ইভটিজিং' বা 'যৌন হয়রানি' (Sexual Harassment) নামক সামাজিক অপরাধের শিকার হয়েছে।
প্রকাশ্যে রাস্তাঘাটে, গণপরিবহনে বা যেকোনো উন্মুক্ত স্থানে নারীদের লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করা, অঙ্গভঙ্গি করা, পথরোধ করা কিংবা মানসিক চাপ সৃষ্টি করাকে ইভটিজিং বা যৌন নিপীড়ন বলা হয়। এটি নারীর ব্যক্তিত্ব, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নাইমা রহমান কলেজে যাতায়াতের পথে কিছু বখাটে ছেলের আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ কথার মাধ্যমে নিয়মিত হয়রানির শিকার হন। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁর ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং এর ফলে নাইমার স্বাভাবিক শিক্ষা জীবন ব্যাহত হয়ে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। এই আচরণসমূহ সরাসরি ইভটিজিং বা যৌন হয়রানির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিফলিত সমস্যাটি হলো ইভটিজিং বা যৌন হয়রানি, যা নিরসনে বাংলাদেশ সরকার নানামুখী আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রথমত, সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন (Mobile Court Act)-এর আওতায় ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা অনুযায়ী নারীর শালীনতাহানির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিতে পারে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, পুলিশ এসে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়, যার ফলে নাইমা পুনরায় লেখাপড়া শুরু করতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয়ত, সরকার যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া পুলিশি সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯' এবং নারী ও শিশুদের সহায়তায় '১০৯' হেল্পলাইন চালু রাখা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজের সামনে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, সরকার সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে। উদ্দীপকের ঘটনার আলোকে বলা যায়, সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বখাটেদের নিবৃত্ত করতে এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও