বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
3.
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশ
ভূমিকা:
'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'—মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাসের এই কালজয়ী বাণী আবহমান বাংলার অন্তরাত্মার সুর। বাংলাদেশ নানা ধর্ম, বর্ণ ও নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সহাবস্থানের এক অনন্য ক্ষেত্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে একত্রে বসবাস করে আসছে। এই ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই বাংলাদেশের প্রধানতম শক্তি ও ঐতিহ্য।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বরূপ:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলতে বোঝায় সমাজে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পরমতসহিষ্ণুতা, প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এটি এমন এক পরিবেশ নিশ্চিত করে যেখানে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারে এবং একে অপরের আনন্দ-বেদনায় শরিক হয়।
বাঙালির ইতিহাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি:
বাংলার ইতিহাস মূলত সমন্বয়বাদী সংস্কৃতির ইতিহাস। লালন শাহ, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম প্রমুখ বাউল ও সুফি সাধকদের উদার মানবতাবাদী দর্শন বাঙালির মনন গড়ে তুলেছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি জাতীয় লড়াইয়ে সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রক্ত দিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' গৃহীত হয়েছিল এই ঐতিহাসিক সম্প্রীতির চেতনা থেকেই।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন:
বাংলাদেশের সামাজিক উৎসবগুলো ধর্মীয় সীমানা ছাড়িয়ে সার্বজনীন হয়ে ওঠে। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন কিংবা পহেলা বৈশাখ—প্রতিটি উৎসবেই সব ধর্মের মানুষ একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে। 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার'—এই প্রবাদটি বাংলাদেশের জনজীবনের জীবন্ত বাস্তবতা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ ও হুমকি:
ঐতিহ্যগতভাবে সম্প্রীতির দেশ হলেও মাঝে মাঝে সংকীর্ণ স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এ সম্প্রীতি হুমকির মুখে পড়ে। এর কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১. ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় শিক্ষার সঠিক ব্যাখ্যার অভাব।
২. সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানো।
৩. রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি এবং অশিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার অভাব।
সম্প্রীতি রক্ষায় করণীয়:
১. ধর্মীয় সহনশীলতা ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
২. যেকোনো ধরনের ধর্মীয় উসকানি বা গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা প্রচার।
৪. প্রতিটি ধর্মের মানুষের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার সুনিশ্চিত করা।
উপসংহার:
বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও উগ্রতা সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে। তাই দেশকে সমৃদ্ধি ও শান্তির পথে এগিয়ে নিতে হলে সব বিভেদ ভুলে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। সম্প্রীতির এই চিরন্তন ধারা রক্ষা করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও