অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' দেশ 'খ' দেশকে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য দুইশত কোটি ডলার বৈদেশিক সাহায্য প্রদান করে। চুক্তির শর্তানুযায়ী 'ক' দেশ সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য যন্ত্রপাতি, প্রকৌশলী ও শ্রমিক পাঠায়। শর্ত থাকায় 'খ' দেশ দক্ষ জনবল থাকা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে নিজেদের শ্রমশক্তি ব্যবহার করতে পারেনি। সম্প্রতি 'খ' দেশের সরকার এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচিসমূহ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি নিজস্ব শ্রম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে রপ্তানির উদ্দেশ্যে তৈরি পোশাক, পাটপণ্য ও মাছ উৎপাদনের বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশটি আর বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে চায় না।
- ক)(1)
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
বিশ্বায়নের ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায় কি না?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লাভজনক কি উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অঞ্চলের মধ্যে যে ক্রয়-বিক্রয় বা বাণিজ্য সংঘটিত হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বায়নের ফলে স্বল্পমেয়াদে বা বিশেষ ক্ষেত্রে কোনো দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্বায়নের ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের অপ্রস্তুত বা অদক্ষ দেশীয় শিল্পগুলো বহুজাতিক বা উন্নত দেশের আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া তীব্র প্রযুক্তিনির্ভরতা ও অটোমেশনের ফলে শ্রমঘন উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমিকের চাহিদা হ্রাস পায়। ফলে অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে সাময়িকভাবে বা নির্দিষ্ট খাতে বেকার হয়ে পড়তে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোতে সাধারণত মূলধনের ঘাটতি, সঞ্চয়ের স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তির অভাব থাকে। এ ধরনের দেশগুলোতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাস্তাঘাট, সেতু ইত্যাদি অবকাঠামোগত বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়, যা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জোগান দেওয়া সম্ভব হয় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'খ' দেশে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের মতো বৃহৎ প্রকল্পের জন্য দুইশত কোটি ডলার বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে পেরেছে। সুতরাং, প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজেট ঘাটতি পূরণ ও মূলধনি দ্রব্যাদি আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শর্তযুক্ত বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেশের অর্থনীতির জন্য অনেক বেশি লাভজনক এবং টেকসই।
উদ্দীপকে 'ক' দেশ 'খ' দেশকে দুইশত কোটি ডলার সাহায্য প্রদান করলেও শর্ত আরোপ করে তাদের নিজস্ব যন্ত্রপাতি, প্রকৌশলী ও শ্রমিক পাঠায়। এর ফলে 'খ' দেশের নিজস্ব দক্ষ জনবল থাকা সত্ত্বেও তাদের শ্রমশক্তি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি, যা তাদের স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ব্যাহত করেছে। পক্ষান্তরে, পরবর্তীতে 'খ' দেশ নিজস্ব শ্রম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি পোশাক, পাটপণ্য ও মাছ উৎপাদনের মতো সম্ভাবনাময় খাতে রপ্তানিমুখী প্রকল্প হাতে নেয় এবং বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বিশেষায়িত দক্ষতা এবং তুলনামূলক সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে। রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্জিত আয় কোনো অপমানজনক শর্তাধীন থাকে না, বরং তা জাতীয় আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। অপরদিকে বৈদেশিক সাহায্য অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরাধীনতা বা পরনির্ভরশীলতা সৃষ্টি করে।
অতএব, দীর্ঘমেয়াদে দেশের আত্মমর্যাদা, নিজস্ব সম্পদের সদ্ব্যবহার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বৈদেশিক সাহায্যের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনেক বেশি লাভজনক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও