ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. হারুন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। মি. হারুন মি. আলীর পাওনা টাকা বাবদ ৫ লক্ষ টাকার একটি চেক ইস্যু করেন। চেকটি তার কর্মচারী মারফত মি. আলীর নিকট পাঠান। মি. হারুনের উক্ত কর্মচারী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে পালিয়ে যায়।

  1. ক)

    বাসি চেক কী?

    (1)
  2. খ)

    চেকের অমর্যাদা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মি. হারুনের ইস্যুকৃত চেকটি কোন ধরনের চেক ছিল তা ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মি. হারুন কি এই প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পেতে পারত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চেক ইস্যু করার তারিখ হতে নির্দিষ্ট মেয়াদ (সাধারণত ৬ মাস) অতিবাহিত হওয়ার পর ব্যাংকে উপস্থাপিত চেককে বাসি চেক (Stale Cheque) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো গ্রাহক কর্তৃক ইস্যুকৃত চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের পর ব্যাংক যদি কোনো বৈধ বা আইনগত কারণে চেকের অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাকে চেকের অমর্যাদা বা প্রত্যাখ্যাত হওয়া (Dishonour of Cheque) বলে। চেকের হিসাবে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকা, ঘষামাজা বা কাটাছেঁড়া থাকা, স্বাক্ষর না মেলা ইত্যাদি কারণে চেক অমর্যাদা হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. হারুনের ইস্যুকৃত চেকটি ছিল একটি 'বাহক চেক' (Bearer Cheque)।

    যে চেকের অর্থ চেকের বাহক বা ধারককে পরিশোধ করার জন্য ব্যাংক বাধ্য থাকে, তাকে বাহক চেক বলে। এ ধরনের চেকে সাধারণত 'অথবা বাহককে' কথাটি লেখা থাকে এবং এতে কোনো দাগ কাটা বা বিশেষ শর্ত যুক্ত থাকে না। এই চেক হস্তান্তর করতে কোনো অনুমোদনের (endorsement) প্রয়োজন হয় না, কেবল চেকের হস্তান্তরের মাধ্যমেই মালিকানা বদল হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. হারুন মি. আলীকে পাওনা টাকা দেওয়ার জন্য যে ৫ লক্ষ টাকার চেকটি কর্মচারীর মাধ্যমে পাঠান, সেই কর্মচারী ব্যাংক থেকে সহজেই নগদ টাকা তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। চেকটিতে যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বা রেখাঙ্কন করা থাকতো, তবে কর্মচারী নিজে কাউন্টার থেকে সরাসরি টাকা তুলতে পারত না। অতএব, যেকোনো ব্যক্তির পক্ষে ব্যাংক থেকে সরাসরি নগদ টাকা তোলা সম্ভব হওয়ার কারণে এটি স্পষ্টত একটি বাহক চেক ছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের মি. হারুন একটু সচেতন হলেই এই প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পেতে পারতেন। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. হারুন একটি বাহক চেকে ৫ লক্ষ টাকার মতো একটি বড় অংকের অর্থ লিখে কর্মচারীর হাত দিয়ে পাঠান, যার সুযোগ নিয়ে কর্মচারী ব্যাংকের কাউন্টার থেকে সরাসরি নগদ টাকা উত্তোলন করে পালিয়ে যায়। এটি ছিল একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ।

    মি. হারুন নিম্নোক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতারণা এড়াতে পারতেন:
    ১. চেক রেখাঙ্কন (Crossing): চেকটির উপরিভাগে বাম কোণে আড়াআড়িভাবে দুটি সমান্তরাল সরলরেখা টেনে অর্থাৎ রেখাঙ্কিত চেক (Crossed Cheque) তৈরি করে দিলে ব্যাংকের কাউন্টার থেকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হতো না। অর্থ কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে উত্তোলিত হতে পারত।
    ২. প্রাপকের হিসাবে প্রদেয় (Account Payee Only) রেখাঙ্কন: চেকটিতে 'Account Payee Only' লিখে দিলে মি. আলী ছাড়া অন্য কেউ এবং তাঁর ব্যাংক হিসাব ব্যতীত এই টাকা জমা করতে বা তুলতে পারত না।
    ৩. হুকুম চেক হিসেবে ইস্যু: বাহক শব্দ কেটে দিয়ে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রাপকের নামে চেক ইস্যু করলেও ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পেত।

    সুতরাং, মি. হারুন যদি বাহক চেকের পরিবর্তে চেকটিকে রেখাঙ্কিত করে দিতেন, তাহলে কর্মচারী কোনোভাবেই ব্যাংক থেকে নগদ টাকা আত্মসাৎ করতে পারত না এবং তিনি আর্থিক প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন