যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ব্যাখ্যা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের '?'চিহ্নিতস্থানে নির্দেশিত বিষয়টির বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ক ও খ দ্বারা নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো জটিল, দুর্বোধ্য বা অস্পষ্ট বিষয়কে সহজ, বোধগম্য ও স্পষ্ট করে প্রকাশ করার প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লৌকিক ব্যাখ্যা কোনো নিয়মনিষ্ঠ বা বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং এটি মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও অজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। যেহেতু বিভিন্ন ব্যক্তির অন্ধবিশ্বাস, আবেগ ও কল্পনার ধরন ভিন্ন ভিন্ন হয়, তাই একই ঘটনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন অলৌকিক বা মনগড়া কারণ কল্পনা করে। এ কারণেই লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি হলো 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপসমূহ হলো বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন এবং অন্তর্ভুক্তি। যেহেতু উদ্দীপকে মাঝখানের রূপটি 'শৃঙ্খলযোজন' দেওয়া আছে, তাই মূল বিষয়টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কোনো ঘটনার পেছনে প্রাকৃতিক কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কার করে এবং অলৌকিক বা অতিলৌকিক কারণকে বর্জন করে।
    ২. প্রকল্পের ব্যবহার: কার্যকারণ সূত্র আবিষ্কারের প্রাথমিক ধাপে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যুক্তিসঙ্গত ও যাচাইযোগ্য প্রকল্প গঠন করা হয়।
    ৩. সার্বিকীকরণ ও সংযুক্তিকরণ: এ ব্যাখ্যায় বিশেষ নিয়ম বা ঘটনাকে অপেক্ষাকৃত অধিকতর ব্যাপক ও সাধারণ নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়।
    ৪. আপেক্ষিকতা ও পরিবর্তনশীলতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা চিরন্তন সত্য নয়; নতুন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এটি সংশোধিত ও পরিবর্তিত হতে পারে।
    ৫. ব্যক্তিনিরপেক্ষতা: এটি কোনো ব্যক্তিগত আবেগ বা বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না, ফলে ব্যক্তিভেদে এর রূপ পরিবর্তিত হয় না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অপর দুটি রূপ 'ক' ও 'খ' যথাক্রমে 'বিশ্লেষণ' (Analysis) এবং 'অন্তর্ভুক্তি' (Subsumption) নির্দেশ করে (যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিড বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার তিনটি রূপ উল্লেখ করেছেন: বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন ও অন্তর্ভুক্তি)। নিম্নে এ দুটি রূপ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বিশ্লেষণ (ক): কোনো মিশ্র বা জটিল কার্যকে তার পৃথক পৃথক উপাদান বা কারণের ক্রিয়ায় বিভক্ত করে প্রকাশ করাকে বিশ্লেষণ বলে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একটি ঘটনা একাধিক কারণের যৌথ ক্রিয়ার ফল। যেমন—বাতাসের চাপ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার যৌথ ফল হিসেবে আবহাওয়া পরিবর্তিত হয়। এই যৌথ ক্রিয়ার পৃথক পৃথক উপাদানগুলো আলাদা করে কার্যকারণ সম্পর্ক স্পষ্ট করাই হলো বিশ্লেষণের কাজ।

    ২. অন্তর্ভুক্তি (খ): কোনো অপেক্ষাকৃত কম ব্যাপক বা বিশেষ নিয়মকে অধিকতর ব্যাপক একটি নিয়মের অধীনে নিয়ে এসে ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্তি বলে। যেমন—পৃথিবীর ওপর অন্যান্য বস্তুর পতন ও গতিবিধির মতো বিশেষ নিয়মগুলোকে নিউটনের সর্বজনীন মহাকর্ষ নিয়মের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    পরিশেষে বলা যায়, জটিল ঘটনা ভেঙে উপাদান নির্ণয়ে 'বিশ্লেষণ' এবং বিশেষ নিয়মকে বৃহৎ সার্বিক নিয়মে সমন্বিত করতে 'অন্তর্ভুক্তি'—উভয় রূপই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন