পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
পাকিস্তান আমলে একটি বিয়োগ্রান্তক ঘটনাকে উপজীব্য করে রচিত হয় কবিতা - কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি, সংগীত - ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়,তোরা ঢাকা শহর রক্ত ভাসাইলি, উপন্যাস- আরেক ফাল্গুন, নাটক- কবর। রচনা সমূহ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে তেমনি বিয়োগান্তক ঘটনার ফলে শ্রেষ্ঠ বাঙালির অদম্য চেতনা কে করেছে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। এর ধারাবাহিকতায় আরও কয়েকটি সফল রাজনৈতিক কর্মসূচি চূড়ান্ত পরিণতি হলো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
- ক)(1)
আগরতলা মামলার আসামি সংখ্যা কত ছিল?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রচনাসমূহ তোমার পঠিত যে বিয়কান্তক ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় তার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনাটি তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি সংখ্যা ছিল ৩৫ জন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঢাকাসহ সারা পূর্ব পাকিস্তানে নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর যে নৃশংস ও বর্বরোচিত গণহত্যা অভিযান শুরু করেছিল, তার গোপন সামরিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে সমূলে ধ্বংস করা এবং বাঙালি জাতিকে স্তব্ধ করে দেওয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রচনাসমূহ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নিচে এর পটভূমি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো:
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে সংখ্যালঘিষ্ঠদের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ঘোষণা দেন "Urdu, and only Urdu shall be the state language of Pakistan", যার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে বাঙালি ছাত্রসমাজ।
পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন পুনরায় উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করে। গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলেও ছাত্র-জনতা তা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই বিয়োগান্তক রক্তক্ষয়ী ঘটনার পটভূমিতেই উদ্দীপকে উল্লিখিত অমর সাহিত্য ও গান রচিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনাটি অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ছিল অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী।
প্রথমত, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্বি-জাতিতত্ত্বভিত্তিক ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের মোহভঙ্গ ঘটে এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। এটি বাঙালির মনে রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা ও আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, ভাষা আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতা পরবর্তী সকল স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি ছিল একুশের চেতনা।
সর্বোপরি, এই আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। তাই বলা যায়, ভাষা আন্দোলনই স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও