জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : বর্জ্য ও নিষ্কাশন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বৃক্কের গাঠনিক এককের চিত্র অংকন করে কীভাবে সেখানে মূত্র সৃষ্টি হয় তার প্রক্রিয়া ছাত্রদের বুঝিয়ে দিলেন।
- ক)(1)
সারফেকট্যান্ট কী?
- খ)(2)
সাইনুসাইটিসের লক্ষণসমূহ লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটির বিবরণ দাও।
- ঘ)(4)
রক্তের pH নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকের অঙ্গটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সারফ্যাকট্যান্ট হলো ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের বিশেষ কোষ (টাইপ-২ অ্যালভিওলার কোষ) থেকে ক্ষরিত ফসফোলিপিড ও প্রোটিন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ, যা অ্যালভিওলাসের ভেতরের পৃষ্ঠটান কমিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ফুসফুসকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাইনুসাইটিসের প্রধান লক্ষণসমূহ নিম্নরূপ:
১. মাথাব্যথা এবং মুখমণ্ডল, চোখ ও কপালে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া, বিশেষ করে মাথা নিচু করলে ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া।
২. নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নাক দিয়ে ঘন, হলুদ বা সবুজ রঙের শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া।
৩. ঘ্রাণশক্তি হ্রাস পাওয়া, মৃদু জ্বর হওয়া এবং শারীরিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি বোধ হওয়া।
৪. দাঁতে ব্যথা, কাশি এবং গলার পেছনের দিকে শ্লেষ্মা নেমে আসা (পোস্ট-নেজাল ড্রিপ)। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো নেফ্রনে মূত্র সৃষ্টির প্রক্রিয়া। মূত্র তৈরির প্রক্রিয়াটি প্রধানত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. অতিসূক্ষ্ম পরিশ্রাবণ (Ultrafiltration): অ্যাফারেন্ট রেনাল আর্টারিওল দিয়ে রক্ত গ্লোমেরুলাসে প্রবেশ করে। গ্লোমেরুলাসের উচ্চ হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপের কারণে রক্তরস থেকে পানি, গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন লবণ পরিশ্রুত হয়ে বোম্যান্স ক্যাপসুলের লুমেনে প্রবেশ করে। এই তরলকে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট বলে। রক্তকণিকা ও বড় প্রোটিন অণু রক্তেই থেকে যায়।
২. নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ (Selective Reabsorption): গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট যখন রেনাল টিউবিউলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ (যেমন: প্রায় সবটুকু গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রয়োজনীয় পানি এবং Na+, K+, Cl- আয়ন) প্রক্সিমাল ও ডিস্টাল প্যাঁচানো নালিকা এবং হেনলির লুপ দ্বারা সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়ায় পুনঃশোষিত হয়ে রক্তে ফিরে আসে।
৩. সক্রিয় ক্ষরণ (Tubular Secretion): টিউবিউলের চারপাশের কৈশিক জালিকা থেকে কিছু অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ, যেমন—ক্রিয়েটিনিন, ওষুধ, অতিরিক্ত হাইড্রোজেন ও পটাশিয়াম আয়ন সক্রিয়ভাবে ফিলট্রেটের মধ্যে ক্ষরিত হয়।
অবশেষে সংগ্রাহী নালিকায় মূত্র ঘনীভূত হয়ে মূত্রনালির মাধ্যমে রেনাল পেলভিসে জমা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো বৃক্ক (Kidney)। মানবদেহের রক্তের স্বাভাবিক pH মান (৭.৩৫ - ৭.৪৫) সুনির্দিষ্ট রাখতে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. হাইড্রোজেন আয়ন () ক্ষরণ: রক্তের অম্লতা বৃদ্ধি পেলে (pH কমে গেলে) ডিস্টাল প্যাঁচানো নালিকা ও সংগ্রাহক নালিকার কোষগুলো রক্ত থেকে অতিরিক্ত আয়ন ফিলট্রেট বা নালিকার গহ্বরে সক্রিয়ভাবে ক্ষরণ করে, যা মূত্রের সাথে দেহের বাইরে নিষ্কাশিত হয়। ফলে রক্তের অতিরিক্ত অম্লতা দূর হয়।
২. বাইকার্বনেট আয়ন () পুনঃশোষণ ও উৎপাদন: এসিড-ক্ষারক ভারসাম্যের জন্য বাইকার্বনেট একটি প্রধান বাফার। বৃক্কনালিকার কোষগুলোতে কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ও বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড () গঠন করে, যা ভেঙে ও উৎপন্ন করে। কোষ থেকে উৎপাদিত নতুন আয়ন রক্তে প্রবেশ করে রক্তের ক্ষারীয় মাত্রা বজায় রাখে। তাছাড়া ফিলট্রেট থেকে প্রয়োজনীয় বাইকার্বনেট আয়ন রক্তে পুনঃশোষিত হয়।
৩. বাফারিং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ: মূত্রের মাধ্যমে নির্গত অতিরিক্ত সরাসরি নির্গত না হয়ে ফসফেট বাফার (যেমন: এর সাথে বিক্রিয়া করে গঠন) এবং অ্যামোনিয়া বাফার ( এর সাথে যুক্ত হয়ে বা অ্যামোনিয়াম গঠন) হিসেবে নিরপেক্ষ হয়ে মূত্রের সাথে বেরিয়ে যায়। এর ফলে শরীর থেকে স্থায়ীভাবে এসিড দূর করা সম্ভব হয়।
সুতরাং, বাইকার্বনেট সংরক্ষণ ও পুনরুৎপাদন এবং অতিরিক্ত হাইড্রোজেন আয়ন ক্ষরণ ও নিষ্কাশনের মাধ্যমে বৃক্ক রক্তের pH-এর সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও