‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশাল আয়তনের জেলা ‘D' গত বছর বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আয়তনে বড় হওয়ায় বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্ৰাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছিল। তাই সরকার জেলাটিকে দু'ভাগে ভাগ করে। জেলার সাধারণ জনগণ এই বিভক্তিকে স্বাগত জানালেও সচেতন নাগরিকরা এর বিরোধিতা করে। কিন্তু সরকার জনস্বার্থে জেলার বিভক্তিকরণ বহাল রাখে।

  1. ক)

    কোম্পানির শাসনের অবসানে কে ভারত শাসনের ক্ষমতা গ্রহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায় ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ-ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল পাওয়া যায়? তার কারণগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের তুলনায় পাঠ্যবইয়ে বিবৃত ঘটনায় শাসকের গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল হতাশাব্যঞ্জক”— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসানে ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়া ভারত শাসনের ক্ষমতা সরাসরি গ্রহণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে প্রদেশের শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীনতা বা ক্ষমতা। এই ব্যবস্থায় শাসনতান্ত্রিক আইন অনুযায়ী কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয় এবং প্রাদেশিক বিষয়গুলোতে প্রাদেশিক আইনসভা ও মন্ত্রিসভা কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ও স্থানীয় জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ-ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ'-এর মিল পাওয়া যায়।

    লর্ড কার্জন কর্তৃক ১৯০৫ সালে বাংলা প্রদেশ বিভক্তির প্রধান কারণগুলো সংক্ষেপে নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. প্রশাসনিক কারণ: তৎকালীন বাংলা প্রেসিডেন্সি ছিল বিশাল আয়তনের (প্রায় ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল) এবং এর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮ কোটি। একজন মাত্র ছোটলাটের (লেফটেন্যান্ট গভর্নর) পক্ষে যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নতির মধ্যে এত বিশাল অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠু শাসন পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ছিল।
    ২. পূর্ববঙ্গের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা: পূর্ববঙ্গের পাট ও অন্যান্য সম্পদ কলকাতায় চলে যেত এবং প্রশাসনিক অবহেলার কারণে চট্টগ্রাম ও পূর্ববঙ্গ আর্থ-সামাজিকভাবে মারাত্মক পিছিয়ে পড়েছিল। এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা অন্যতম কারণ ছিল।
    ৩. রাজনৈতিক কারণ (ভাগ কর ও শাসন কর নীতি): জাতীয়তাবাদী চেতনার কেন্দ্রবিন্দু কলকাতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক আন্দোলন দুর্বল করা এবং হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে ব্রিটিশ শাসন সুদৃঢ় করার জন্য ব্রিটিশ সরকার এ বিভাজন ঘটিয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের তুলনায় পাঠ্যবইয়ে বিবৃত ঘটনায় শাসকের গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল হতাশাব্যঞ্জক”— উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখে সত্য।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশাল আয়তনের 'D' জেলার জনগণের কল্যাণে সরকার বিভক্তিকরণ নীতি বজায় রেখে প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে, ১৯০৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার শাসনকাজের সুবিধার্থে এবং পিছিয়ে পড়া পূর্ববঙ্গের জনগণের স্বার্থে বঙ্গভঙ্গ করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠন করেছিল। ফলে পিছিয়ে পড়া পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ও অনগ্রসর জনগণ অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও সামাজিক উন্নয়নের নবদিগন্তের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল এবং ঢাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছিল।

    কিন্তু উচ্চবর্ণের হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও কলকাতার প্রভাবশালী কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বঙ্গভঙ্গকে 'বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ' আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করে এবং সহিংস স্বদেশী ও সন্ত্রাসী আন্দোলন গড়ে তোলে। অবশেষে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ (বাতিল) ঘোষণা করে।

    বঙ্গভঙ্গ রদের এই সিদ্ধান্তটি ছিল পূর্ববঙ্গের উন্নয়নকামী মুসলিম ও সাধারণ জনগণের জন্য চরম হতাশাব্যঞ্জক ও বেদনাদায়ক। এর ফলে পূর্ববঙ্গের সদ্য সূচিত বিকাশ স্তব্ধ হয়ে যায় এবং ব্রিটিশদের পক্ষপাতদুষ্ট নীতির কারণে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকে শাসক জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিভক্তিকরণ বজায় রেখেছেন। অতএব, পাঠ্যবইয়ে শাসকের বঙ্গভঙ্গ রদের সিদ্ধান্তটি বাস্তবিক অর্থেই অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন