বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
4.
(ক) উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।অথবা,(খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর:তেপান্তর, জলচর, উদ্বেল, মৃগনয়না, আমরা, মুখচন্দ্র, দেশান্তর, অনাচার।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) এর উত্তর:
উপসর্গের সংজ্ঞা:
বাংলা ভাষায় যেসব অর্থহীন কিন্তু অর্থদ্যোতক শব্দাংশ অন্য কোনো ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে, শব্দের অর্থের পূর্ণতা, সম্প্রসারণ, সংকোচন বা পরিবর্তন ঘটায়, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। যেমন: 'হার' শব্দের পূর্বে 'প্র' উপসর্গ যুক্ত হয়ে গঠিত হয় 'প্রহার' (মারধর করা)।
উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা:
বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে এবং ভাব প্রকাশের পরিসর বাড়াতে উপসর্গের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো:
১. নতুন শব্দ গঠন: উপসর্গের প্রধান কাজ হলো ভাষায় নিত্যনতুন শব্দ সৃষ্টি করা। যেমন: কার শব্দের পূর্বে অপ যুক্ত হয়ে 'অপকার', উপ যুক্ত হয়ে 'উপকার' গঠিত হয়।
২. শব্দের অর্থের পরিবর্তন: অনেক সময় উপসর্গ শব্দের মূল অর্থকে পুরোপুরি উল্টে বা বদলে দেয়। যেমন: ভাব শব্দের পূর্বে 'অভাব'।
৩. অর্থের সংকোচন ও সম্প্রসারণ: উপসর্গ শব্দের অর্থকে কখনো সীমিত করে, কখনো বিস্তৃত করে। যেমন: তাপ শব্দের আগে অনু যুক্ত হয়ে 'অনুতাপ' (সংকোচন), পূর্ণ শব্দের আগে পরি যুক্ত হয়ে 'পরিপূর্ণ' (সম্প্রসারণ)।
৪. ভাষার শ্রীবৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য: উপসর্গযুক্ত শব্দ ব্যবহারের ফলে ভাষা সাবলীল, গতিশীল ও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে।
অতএব, বাংলা ব্যাকরণে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
অথবা,
(খ) এর উত্তর:
প্রদত্ত শব্দের ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় (যেকোনো পাঁচটি):
১. তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার — দ্বিগু সমাস
২. জলচর = জলে চরে যা — উপপদ তৎপুরুষ সমাস
৩. উদ্বেল = বেলাকে অতিক্রান্ত — অব্যয়ীভাব সমাস
৪. মৃগনয়না = মৃগের নয়নের ন্যায় নয়ন যার — মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
৫. আমরা = তুমি, সে ও আমি — একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস
৬. মুখচন্দ্র = মুখ চন্দ্রের ন্যায় — উপমিত কর্মধারয় সমাস
৭. দেশান্তর = অন্য দেশ — নিত্য সমাস
৮. অনাচার = ন আচার — নঞ তৎপুরুষ সমাস
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও