জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • অণুজীব • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

A অণুজীব: আদিকোষী, আণুবীক্ষণিক।B অণুজীব: অকোষীয়, অতি আণুবীক্ষণিক।

  1. ক)

    ব্যাকটেরিওফায কী?

    (1)
  2. খ)

    সিগনেট রিং বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    কোষের আকারের উপর ভিত্তি করে A অণুজীবের শ্রেণিবিন্যাস লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    'B অণুজীব A অণুজীবের কোষকে ধ্বংস করে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে সক্ষম'— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটিয়ে এদের ধ্বংস করে, তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায বা ফায ভাইরাস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ম্যালেরিয়া পরজীবী প্লাজমোডিয়ামের (Plasmodium) ট্রফোজয়েট দশায় কোষের কেন্দ্রে একটি বড় গহ্বর সৃষ্টি হয়। এই গহ্বরের চাপে এর সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস একপাশে বা পরিধির দিকে সরে যায়। ফলে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে পরজীবীটিকে পাথুরে আংটি বা আংটির মতো দেখায়। ট্রফোজয়েটের এই বিশেষ আংটির মতো রূপকে সিগনেট রিং (Signet ring) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া (যেহেতু এটি আদিকোষী ও আণুবীক্ষণিক)।

    কোষের আকারের ওপর ভিত্তি করে ব্যাকটেরিয়াকে প্রধানত নিম্নরূপ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
    ১. কক্কাস (Coccus): এরা গোলাকার ব্যাকটেরিয়া। কোষের বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে এরা বিভিন্ন ধরনের হয়; যেমন- মাইক্রোকক্কাস, ডিপ্লোকক্কাস, স্ট্রেপ্টোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস ইত্যাদি।
    ২. ব্যাসিলাস (Bacillus): এরা দণ্ডাকার বা রডের মতো ব্যাকটেরিয়া। যেমন- একক ব্যাসিলাস, ডিপ্লোব্যাসিলাস, স্ট্রেপ্টোব্যাসিলাস ইত্যাদি (উদাহরণ: Bacillus albus)।
    ৩. স্পাইরিলাম (Spirillum): এরা সর্পিলাকার বা পেঁচানো আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। যেমন: Spirillum volutans।
    ৪. কমা বা ভিব্রিও (Comma/Vibrio): এরা দেখতে কমা (,) চিহ্নের মতো বা সামান্য বাঁকানো। যেমন: Vibrio cholerae।
    ৫. বহুরূপী (Pleomorphic): পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে এদের আকার পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন: Rhizobium।
    ৬. সূত্রাকার (Filamentous): এরা লম্বা সূত্রের ন্যায়। যেমন: Candidatus।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'A' অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া এবং 'B' অণুজীবটি হলো অকোষীয় ও অতি আণুবীক্ষণিক জীব অর্থাৎ ভাইরাস (বিশেষভাবে ব্যাকটেরিওফায)।

    ভাইরাস লাইটিক চক্রের (Lytic cycle) মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া কোষকে ধ্বংস করে সংখ্যাবৃদ্ধি করে থাকে। যেমন— T2 ব্যাকটেরিওফায দ্বারা E. coli ব্যাকটেরিয়ার ধ্বংস ও সংখ্যাবৃদ্ধি নিম্নের ধাপগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:

    ১. সংযুক্তি বা স্পর্শ পর্ব: ফায ভাইরাসের স্পর্শক তন্তুর সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া কোষপ্রাচীরের নির্দিষ্ট রিসেপ্টর স্থানে যুক্ত হয়।
    ২. ডিএনএ প্রবেশ করানো: লাইসোজাইম এনজাইম ক্ষরণ করে ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীর গলিয়ে ভাইরাসের সংকুচিত লেজ দিয়ে কেবল ফায ডিএনএ ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। প্রোটিন আবরণী বাইরে থেকে যায়।
    ৩. প্রতিলিপন ও সংশ্লেষণ: ফায ডিএনএ ব্যাকটেরিয়ার জেনেটিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বিপাকীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিজের ডিএনএ প্রতিলিপন এবং নতুন প্রোটিন আবরণী সংশ্লেষণ করে।
    ৪. অঙ্গসংস্থান বা একীকরণ: বিভিন্ন ফায অঙ্গাংশ যেমন— মস্তক, লেজ ও স্পর্শক তন্তু পরস্পর যুক্ত হয়ে অপত্য ভাইরাস তৈরি করে।
    ৫. ব্যাকটেরিয়ার লাইসিস ও নির্গমন: ভাইরাসের তৈরি লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়া প্রাচীরকে বিগলিত বা বিদীর্ণ করে ফেলে। ফলে ব্যাকটেরিয়া কোষটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং নবসৃষ্ট ২০০-৩০০টি অপত্য ফায মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসে।

    সুতরাং, উপযুক্ত বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে 'B' অণুজীব (ভাইরাস) 'A' অণুজীবের (ব্যাকটেরিয়া) কোষকে ধ্বংস করেই নিজস্ব সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন