পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের কাছে দাবি উত্থাপন ও স্বার্থ আদায়ের জন্য ১৯০৬ সালে মুসলমানদের একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠনটির নবাব পরিবারের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রচেষ্টায় ঢাকায় আত্মপ্রকাশ করে।
- ক)(1)
আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের বর্তমান নাম কী?
- খ)(2)
বঙ্গভঙ্গ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় বর্ণিত ব্যক্তিত্বের অবদান ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
শিক্ষা বিস্তারে বর্ণিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের বর্তমান নাম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট / BUET)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ বলতে ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন কর্তৃক বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠনের ঐতিহাসিক প্রশাসনিক পদক্ষেপকে বোঝায়। সুবিশাল বাংলা প্রদেশের সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা এবং পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বিভাজন করা হয়েছিল। এর ফলে গঠিত নতুন প্রদেশ দুটি ছিল— 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' (যার রাজধানী ছিল ঢাকা) এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' (যার অন্তর্ভুক্ত ছিল পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা এবং রাজধানী ছিল কলকাতা)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিত্ব হলেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম ও অগ্রগণ্য।
বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) পর পূর্ব বাংলার মুসলমানদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার তাগিদ তীব্র হয়। তৎকালীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস মূলত হিন্দুদের স্বার্থ সংরক্ষণ করছিল বিধায় মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। নবাব সলিমুল্লাহ এই প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।
১৯০৬ সালের ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে সর্বভারতীয় মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্সের ২০তম অধিবেশন তাঁর ব্যক্তিগত ব্যয়ে আয়োজিত হয়। এই সম্মেলনের সমাপ্তির পর, ৩০ ডিসেম্বর নবাব সলিমুল্লাহর আহ্বানে ভারতীয় বিশিষ্ট মুসলিম নেতাদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনেই নবাব সলিমুল্লাহ মুসলমানদের স্বার্থ ও দাবি-দাওয়া ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম কনফেডারেসি' গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তাঁর এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই সর্বসম্মতভাবে 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ' (নিখিল ভারত মুসলিম লীগ) প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং, মুসলিম লীগ গঠনে মূল পরিকল্পনা, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব নবাব সলিমুল্লাহরই ছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নবাব স্যার সলিমুল্লাহ শুধু রাজনীতিতেই নয়, পূর্ব বাংলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষা বিস্তারেও অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন। নিম্নে তাঁর অবদানের মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো:
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: শিক্ষা ক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহর সবচেয়ে গৌরবময় অবদান হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক উদ্যোগ। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের ক্ষোভ প্রশমনের উদ্দেশ্যে তিনি ১৯১২ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি জানান। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলেই নাথান কমিশন গঠিত হয় এবং অবশেষে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি তাঁর পারিবারিক ভূসম্পত্তিও দান করেছিলেন।
২. কারিগরি শিক্ষার প্রসার: পূর্ব বাংলায় আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার ভিত্তি স্থাপনে সলিমুল্লাহ পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। নবাব সলিমুল্লাহ তাঁর পিতা নবাব খাজা আহসানউল্লাহর স্মরণে বিপুল অর্থ অনুদান দিয়ে ১৯০১ সালে 'আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল' প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, যা পরবর্তীতে দেশের শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়' (বুয়েট)-এ রূপান্তরিত হয়।
৩. মাদ্রাসা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়: তিনি মুসলিম তরুণদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার মেলবন্ধনে সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং আধুনিক শিক্ষার জন্য বহু স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
৪. শিক্ষা সম্মেলন আয়োজন: ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স আয়োজন করে তিনি মুসলিম সমাজের শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতা দূরীকরণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন।
পরিশেষে বলা যায়, নবাব স্যার সলিমুল্লাহর আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজ আধুনিক শিক্ষার আলো দেখতে সক্ষম হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও