ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • চেক, বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অঙ্গীকারপত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    "বাহক চেকে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই"-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম চেকটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উভয় চেকের বৈশিষ্ট্যাদির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অঙ্গীকারপত্র হলো এমন একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল, যার মাধ্যমে এক পক্ষ অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বা তার আদেশানুসারে বা দলিলের বাহককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ শর্তহীনভাবে পরিশোধের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাহক চেকের অর্থ যে-কেউ ব্যাংকে উপস্থাপন করে কাউন্টার থেকে নগদ উত্তোলন করতে পারে, তাই এর হস্তান্তরে কোনো অনুমোদনের (endorsement) প্রয়োজন হয় না।

    ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন অনুযায়ী, যে চেকের অর্থ চেকের ধারক বা বাহককে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া থাকে, তাকে বাহক চেক বলে। এ ধরনের চেক কেবল হাতবদল বা হস্তান্তরের (mere delivery) মাধ্যমেই বৈধভাবে স্বত্ব হস্তান্তরিত হয়। তাই এর পেছনে কোনো স্বাক্ষর বা অনুমোদন ছাড়াই যেকোনো ব্যক্তি অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম চেকটি হলো 'সাধারণ দাগকাটা চেক' (General Crossed Cheque), আরও সুনির্দিষ্টভাবে এটি 'হিসাব প্রাপক দাগকাটা চেক' (Account Payee Crossed Cheque)।

    কোনো চেকের বাম পাশের ওপরের কোণায় আড়াআড়িভাবে দুটি সমান্তরাল সরলরেখা টেনে দিলে তাকে দাগকাটা বা রেখাঙ্কিত চেক বলে। যদি সেই দুটি রেখার মাঝে '& Co.' বা 'হিসাব প্রাপক' (Account Payee) লেখা থাকে অথবা কোনো ব্যাংকের নাম নির্দিষ্ট না করে কেবল রেখা টানা থাকে, তবে তাকে সাধারণ দাগকাটা চেক বলা হয়।

    উদ্দীপকের চিত্র নং ১-এ দেখা যায়, চেকটির ওপরের বাম কোণে দুটি আড়াআড়ি সমান্তরাল রেখা টেনে তার ভেতরে 'প্রাপকের হিসাব' কথাটি লেখা রয়েছে। এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর অর্থ হলো, চেকের অর্থ ব্যাংকের কাউন্টার থেকে সরাসরি নগদে তোলা যাবে না; এটি কেবল প্রাপকের (জনাব করিম) ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে সংগৃহীত হবে। সুতরাং, প্রথম চেকটি একটি প্রাপকের হিসাবযুক্ত সাধারণ দাগকাটা চেক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত উভয় চেকই দাগকাটা বা রেখাঙ্কিত চেক হলেও এদের ধরন ও বৈশিষ্ট্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নিচে এদের বৈশিষ্ট্যাদির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. চেকের ধরন: চিত্র নং ১-এর চেকটি হলো সাধারণ দাগকাটা চেক (হিসাব প্রাপক দাগযুক্ত), কারণ এর রেখা দুটির মাঝে কোনো ব্যাংকের নাম নেই। অপরদিকে, চিত্র নং ২-এর চেকটি হলো 'বিশেষ দাগকাটা চেক' (Special Crossed Cheque), কারণ এর রেখা দুটির মাঝে নির্দিষ্ট ব্যাংকের নাম ('ANZ ব্যাংক লি.') উল্লেখ রয়েছে।

    ২. অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম বা ব্যাংক: চিত্র নং ১-এর চেকটির ক্ষেত্রে প্রাপক (জনাব ফারুক বা করিম) যেকোনো ব্যাংকে তাঁর হিসাবের মাধ্যমে অর্থ জমা ও সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু চিত্র নং ২-এর ক্ষেত্রে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব কেবলমাত্র উল্লিখিত নির্দিষ্ট ব্যাংক, অর্থাৎ 'ANZ ব্যাংক লি.'-এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে হবে। অন্য কোনো ব্যাংক সরাসরি এ চেকের অর্থ আদায় করতে পারবে না।

    ৩. নিরাপত্তার মাত্রা: সাধারণ রেখাঙ্কিত চেক বাহক বা হুকুম চেকের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। তবে বিশেষ দাগকাটা চেক সাধারণ দাগকাটা চেকের চেয়েও অধিক নিরাপদ, কারণ এতে অর্থ আদায়ের ব্যাংক নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে। ফলে কোনো জালিয়াতি বা অপব্যবহারের সুযোগ আরও কমে যায়।

    ৪. সীমাবদ্ধতা বা শর্ত: চিত্র ১-এ 'প্রাপকের হিসাব' শর্তের কারণে টাকা কেবল নির্দিষ্ট প্রাপকের হিসাবে যাবে। চিত্র ২-এ ব্যাংকের নাম নির্দিষ্ট করায় টাকা কেবল সেই নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমেই আদায় হতে বাধ্য।

    পরিশেষে বলা যায়, দুটি চেকই নগদ উত্তোলনের ঝুঁকি এড়িয়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয়, তবে ব্যাংকের নাম নির্দিষ্ট থাকার কারণে চিত্র নং ২-এর চেকটি চিত্র নং ১-এর চেয়ে অধিক সুরক্ষিত ও সুনির্দিষ্ট।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন