উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • উৎপাদন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
ঢাকা লেদারস্-এর দুই বছরের উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্যাবলি নিম্নরূপ:
| বিবরণ | ২০২৪ সাল | ২০২৫ সাল |
|---|---|---|
| মোট উৎপাদন | ২,৪০০ একক | ২,৬০০ একক |
| এককপ্রতি বিক্রয় মূল্য | ৫০০ টাকা | ৫৭৫ টাকা |
| কাঁচামাল ব্যয় | ৫,০০,০০০ টাকা | ৬,১৫,০০০ টাকা |
| শ্রম ব্যয় | ১,০০,০০০ টাকা | ১,০০,০০০ টাকা |
| যন্ত্রপাতি ব্যয় | ১,৫০,০০০ টাকা | ২,০০,০০০ টাকা |
| অন্যান্য ব্যয় | ৫০,০০০ টাকা | ৭০,০০০ টাকা |
- ক)(1)
ভূমি কী?
- খ)(2)
"শ্রম সর্বাপেক্ষা ধ্বংসশীল উপাদান"—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ঢাকা লেদারস্-এর ২০২৫ সালের কাঁচামালের উৎপাদনশীলতা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
মোট উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে 'ঢাকা লেদারস্' এর অগ্রগতি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে পৃথিবীর উপরিভাগকে ভূমি বলে, তবে অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতির সকল দান (যেমন—মাটি, পানি, বায়ু, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি) যা উৎপাদনে সহায়তা করে, তাকে ভূমি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক কর্মপ্রচেষ্টাকে শ্রম বলা হয়, যা মানুষের থেকে আলাদা করা যায় না এবং সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। এ কারণেই শ্রমকে সর্বাপেক্ষা ধ্বংসশীল উপাদান বলা হয়।
একজন শ্রমিক কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা দিনে শ্রম না দিলে বা অলস বসে থাকলে সেই সময়ের শ্রম চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়, তা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখা সম্ভব নয়। অন্যান্য উপাদান যেমন—মূলধন বা কাঁচামাল জমিয়ে রাখা গেলেও অব্যবহৃত শ্রমের অপচয় পুনরুদ্ধার করা যায় না বলেই শ্রম সবচেয়ে বেশি ধ্বংসশীল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
২০২৫ সালে ঢাকা লেদারস্-এর কাঁচামালের উৎপাদনশীলতা ২.৪৩ (টাকায়)।
আমরা জানি,
কাঁচামালের উৎপাদনশীলতা = মোট উৎপাদনের মূল্য / কাঁচামাল ব্যয়উদ্দীপক অনুসারে ২০২৫ সালের:
মোট উৎপাদন = ২,৬০০ একক
এককপ্রতি বিক্রয় মূল্য = ৫৭৫ টাকা
অতএব, মোট উৎপাদনের মূল্য = ২,৬০০ × ৫৭৫ = ১৪,৯৫,০০০ টাকা
কাঁচামাল ব্যয় = ৬,১৫,০০০ টাকাঅতএব, কাঁচামালের উৎপাদনশীলতা = ১৪,৯৫,০০০ / ৬,১৫,০০০ = ২.৪৩ টাকা (প্রায়)।
সুতরাং, ২০২৫ সালে ঢাকা লেদারস্-এর কাঁচামালের উৎপাদনশীলতা ২.৪৩।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোট উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে ঢাকা লেদারস্-এর অগ্রগতি ইতিবাচক নয়, বরং অবনতিশীল।
আমরা জানি,
মোট উৎপাদনশীলতা = মোট উৎপাদনের মূল্য / মোট উপকরণ ব্যয়২০২৪ সালের ক্ষেত্রে:
মোট উৎপাদনের মূল্য = ২,৪০০ একক × ৫০০ টাকা = ১২,০০,০০০ টাকা
মোট উপকরণ ব্যয় = কাঁচামাল ব্যয় + শ্রম ব্যয় + যন্ত্রপাতি ব্যয় + অন্যান্য ব্যয়
= ৫,০০,০০০ + ১,০০,০০০ + ১,৫০,০০০ + ৫০,০০০ = ৮,০০,০০০ টাকা
অতএব, ২০২৪ সালের মোট উৎপাদনশীলতা = ১২,০০,০০০ / ৮,০০,০০০ = ১.৫০২০২৫ সালের ক্ষেত্রে:
মোট উৎপাদনের মূল্য = ২,৬০০ একক × ৫৭৫ টাকা = ১৪,৯৫,০০০ টাকা
মোট উপকরণ ব্যয় = কাঁচামাল ব্যয় + শ্রম ব্যয় + যন্ত্রপাতি ব্যয় + অন্যান্য ব্যয়
= ৬,১৫,০০০ + ১,০০,০০০ + ২,০০,০০০ + ৭০,০০০ = ৯,৮৫,০০০ টাকা
অতএব, ২০২৫ সালের মোট উৎপাদনশীলতা = ১৪,৯৫,০০০ / ৯,৮৫,০০০ = ১.৫২ (প্রায়)বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মোট উৎপাদনশীলতা ২০২৪ সালে ছিল ১.৫০ এবং ২০২৫ সালে তা সামান্য বেড়ে হয়েছে ১.৫২। তবে এখানে লক্ষ্যণীয় যে, ২০২৫ সালে বিক্রয়মূল্য প্রতি এককে ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭৫ টাকা হওয়ায় মোট উৎপাদনের মূল্য বেড়েছে। যদি বিক্রয়মূল্য একই থাকত (৫০০ টাকা), তবে মোট উৎপাদনের মূল্য হতো (২,৬০০ × ৫০০) = ১৩,০০,০০০ টাকা এবং প্রকৃত মোট উৎপাদনশীলতা দাঁড়াত ১৩,০০,০০০ / ৯,৮৫,০০০ = ১.৩২। এমনকি বর্তমান হিসেবেও উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত নগণ্য (১.৫০ থেকে ১.৫২)। অতএব, সার্বিক উপকরণ ব্যবহারের দক্ষতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়েনি, ফলে ঢাকা লেদারস্-এর উৎপাদনশীলতার অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও