সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
সোমপুর বিহার স্নান ঘাট গন্ধেশ্বরীর মন্দির সত্যপীর ভিটা
- ক)(1)
লৌহের প্রথম ব্যবহার হয় কোথায়?
- খ)(2)
চাকার আবিষ্কার সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে নির্দেশ করে - ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস জানতে উদ্দীপকের নিদর্শনসমূহের গুরুত্ব অস্বীকার্য - বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এশিয়া মাইনরের হিটাইট জাতির মধ্যে লৌহের প্রথম ব্যবহার শুরু হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাকার আবিষ্কার মানুষের উৎপাদন, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়ে মানবসভ্যতাকে দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে দিয়েছে।
চাকা আবিষ্কারের পূর্বে মানুষকে হেঁটে কিংবা ভারী বস্তু টেনে নিয়ে যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। চাকা আবিষ্কারের ফলে ভারী বোঝা ও পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে এবং দ্রুত পরিবহন সম্ভব হয়। এছাড়া কুমারের চাকার মাধ্যমে উন্নত পাত্র তৈরি এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন যন্ত্র ও আধুনিক যানবাহনে চাকার প্রয়োগ সভ্যতার অগ্রগতিকে নিশ্চিত করেছে। এজন্য চাকাকে সভ্যতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিদর্শনসমূহ নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে নির্দেশ করে।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর মহাবিহার পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকের শুরুতে নির্মাণ করেন। পাহাড়পুরের মূল বিহার ছাড়াও এর সংলগ্ন এলাকায় স্নানঘাট, গন্ধেশ্বরীর মন্দির এবং সত্যপীর ভিটার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সোমপুর বিহার, স্নানঘাট, গন্ধেশ্বরীর মন্দির এবং সত্যপীর ভিটা—এই চারটি উপাদানই স্পষ্টভাবে নওগাঁর পাহাড়পুরে অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের অংশ। সুতরাং, উদ্দীপকটি পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস জানতে পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
পাহাড়পুর বা সোমপুর বিহার তৎকালীন প্রাচীন বাংলার সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও স্থাপত্যকলার একটি অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। উদ্দীপকে উল্লেখিত সোমপুর বিহার, গন্ধেশ্বরীর মন্দির, সত্যপীর ভিটা ও স্নানঘাটের মতো প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন দিক উন্মোচন করে:
১. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়: সোমপুর বিহার বৌদ্ধ ধর্মের একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। পাশাপাশি গন্ধেশ্বরীর মন্দির ও সত্যপীর ভিটা নির্দেশ করে যে, সেখানে বৌদ্ধ, হিন্দু ও লৌকিক সংস্কৃতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিদ্যমান ছিল।
২. জীবনযাত্রা ও সামাজিক কাঠামো: বিহারের স্থাপত্যশৈলী, ভিক্ষুদের বসবাসের কক্ষ, কেন্দ্রীয় মন্দির এবং স্নানঘাট থেকে তৎকালীন মানুষের উন্নত রুচিবোধ, পরিচ্ছন্নতা এবং সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক জীবনযাত্রার চিত্র পাওয়া যায়।
৩. অর্থনৈতিক ও শৈল্পিক সমৃদ্ধি: বিহারে প্রাপ্ত টেরাকোটা বা পোড়ামাটির ফলকগুলোতে তখনকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জীবজন্তু, পেশা এবং সামাজিক রীতিনীতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়। এটি তৎকালীন সমাজের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শিল্পকলার উৎকর্ষ নির্দেশ করে।সুতরাং, প্রাচীন বাংলার মানুষের জীবনধারা, সামাজিক সংগঠন এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির ইতিহাস পুনর্গঠনে পাহাড়পুরের নিদর্শনগুলোর অবদান অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও