সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মাতৃসূত্রীয় পরিবার কী?

    (1)
  2. খ)

    লেভিরেট ও সরোরেট বিবাহ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের জন্য কোন প্রত্যয়টি প্রযোজ্য? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    '?' চিহ্নিত প্রত্যয়ের কোন কাজটি আমলাতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে। পারে? বাংলাদেশের সমাজের প্রেক্ষিতে আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পরিবারে সন্তান-সন্ততি মায়ের বংশমর্যাদা ও পরিচয়ে পরিচিত হয় এবং মায়ের সূত্রে পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়, তাকে মাতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লেভিরেট বিবাহ (ভাতারী বিবাহ) হলো কোনো স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রীর সাথে তার মৃত স্বামীর ভাইয়ের (দেবর বা ভাসুর) বিবাহ। অন্যদিকে, সরোরেট বিবাহ (শালী বিবাহ) হলো স্ত্রীর মৃত্যুর পর বা ক্ষেত্রবিশেষে স্ত্রীর জীবদ্দশাতেই তার অবিবাহিত বোনের (শ্যালিকা) সাথে স্বামীর বিবাহ। এ উভয় প্রকার বিবাহই সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সন্তানদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের জন্য 'জ্ঞাতিসম্পর্ক' (Kinship) প্রত্যয়টি প্রযোজ্য।

    রক্তের সম্পর্ক, বিবাহ এবং দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে সৃষ্ট সামাজিক বন্ধনকে জ্ঞাতিসম্পর্ক বলা হয়। উদ্দীপকের ছকে স্বজনপ্রীতি সৃষ্টি, জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি, আর্থিক সংকটে সহযোগিতা, নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং নির্বাচনে ভূমিকা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করা হয়েছে—যা জ্ঞাতিসম্পর্কের কার্যাবলি ও প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

    জ্ঞাতিসম্পর্ক মানুষের দুর্দিনে যেমন অর্থনৈতিক ও মানসিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোগায়, তেমনি নেতৃত্ব ও নির্বাচনে জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখে। আবার এর নেতিবাচক দিক হিসেবে নিজ জ্ঞাতি বা আত্মীয়দের প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাতিত্বের ফলে স্বজনপ্রীতির জন্ম দেয়। সামগ্রিকভাবে, উদ্দীপকে প্রদর্শিত কার্যাবলি সমাজবিজ্ঞানের 'জ্ঞাতিসম্পর্ক' প্রত্যয়টির সাথেই পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    '?' চিহ্নিত প্রত্যয় তথা জ্ঞাতিসম্পর্কের 'স্বজনপ্রীতি সৃষ্টি' কাজটি আমলাতন্ত্রকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

    আমলাতন্ত্রের আদর্শিক রূপ হলো মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, নিয়মভিত্তিক প্রশাসন এবং নিরপেক্ষতা। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজে শক্তিশালী জ্ঞাতিসম্পর্কীয় বন্ধন ও আত্মীয়তার টান প্রায়শই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে ব্যাহত করে। উদ্দীপকের 'স্বজনপ্রীতি সৃষ্টি' কাজটি আমলাতন্ত্রে বিদ্যমান নিরপেক্ষতার নিয়মকে পাশ কাটিয়ে আত্মীয়-স্বজনকে সুবিধা দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে।

    বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে অনেক সময় যোগ্যতার চেয়ে রক্ত বা পারিবারিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একজন আমলা বা সরকারি কর্মকর্তা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের চেয়ে নিজ জ্ঞাতিগোষ্ঠীর স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিলে দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়। এর ফলে আমলাতন্ত্রের কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসনের পথ বাধাগ্রস্ত হয়। সুতরাং, জ্ঞাতিসম্পর্কের স্বজনপ্রীতিমূলক প্রভাব বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের সুষ্ঠু কার্যক্রমের জন্য একটি মারাত্মক অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন