ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

কীর্তিপাশার জমিদার মহিম রায় চৌধুরী খুবই রুচিবান ও শৌখিন মানুষ ছিলেন। তিনি জমিদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি জাঁকজমকপূর্ণ দরবারহল নির্মাণ করেছিলেন। পাশাপাশি তার নির্মিত কাচারি বাড়ি নায়েব মহল আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। একই সময়ে নির্মিত নাট মন্দিরটি এখনও ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। তাঁর স্ত্রী কমলাদেবী অনিন্দ্য সুন্দরী ও বিদুষী রমনী ছিলেন। জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর স্ত্রীর প্রতি ছিল অপরিসীম ভালোবাসা। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় পড়ে কমলাদেবী অকালে মৃত্যুবরণ করলে জমিদার খুবই মুষড়ে পড়েছিলেন। তিনি স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষার্থে বহু অর্থ ব্যয়ে যে সৌধটি নির্মাণ করেন, আজও তা বিদ্যমান রয়েছে।

  1. ক)

    সম্রাট শাহজাহানের পিতার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে সংঘটিত উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রধান কারণটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কমলাদেবীর সাথে কোন মুঘল সম্রাটের মহীয়সীর সামঞ্জস্য রয়েছে? বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের আলোকে উক্ত সম্রাটের স্থাপত্যকীর্তির মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্রাট শাহজাহানের পিতার নাম সম্রাট জাহাঙ্গীর (নুরুদ্দিন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে সংঘটিত উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল মুঘলদের মধ্যে সিংহাসন আরোহণের কোনো নির্দিষ্ট বা বিধিবদ্ধ উত্তরাধিকার আইন না থাকা।
    মুঘল রীতি অনুযায়ী "যার তরবারি সবচেয়ে শক্তিশালী, সে-ই সিংহাসনের অধিকারী"—এই ধারণাই প্রচলিত ছিল। শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা শিকোহকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন, যা অপর তিন উচ্চাভিলাষী পুত্র সুজা, আওরঙ্গজেব এবং মুরাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সিংহাসন দখলের প্রবল আকাঙ্ক্ষাই এই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কমলাদেবীর সাথে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রাণপ্রিয় স্ত্রী মমতাজ মহলের (আর্জিউমান্দ বানু বেগম) সাদৃশ্য রয়েছে।

    সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। মমতাজ ছিলেন বিদুষী, রূপসী এবং সম্রাটের একান্ত সহচরী ও পরামর্শদাতা। ১৬৩১ সালে দাক্ষিণাত্যের বুরহানপুরে চতুর্দশ সন্তান প্রসবকালে মমতাজ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রীর এই অকাল প্রয়াণে সম্রাট শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। তাঁর স্মৃতিকে চিরভাস্বর করে রাখার জন্য শাহজাহান আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অনন্যসুন্দর সৌধ 'তাজমহল' নির্মাণ করেন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর বিদুষী ও সুন্দরী স্ত্রী কমলাদেবী দুর্ঘটনায় অকালে মারা গেলে তিনি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েন এবং স্ত্রীর স্মৃতিরক্ষার জন্য বহু অর্থ ব্যয়ে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। এই ঘটনাটি সম্রাট শাহজাহান ও তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের জীবন ও তাঁদের স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ইতিহাসের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর দরবারহল, কাচারি বাড়ি ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কর্মকাণ্ডে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অনন্য স্থাপত্যকীর্তির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। মুঘল ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহানকে 'Prince of Builders' বা 'স্থাপত্যের যুবরাজ' বলা হয়।

    উদ্দীপকে মহিম রায় চৌধুরী যেমন দরবারহল, কাচারি বাড়ি, নাট মন্দির এবং স্ত্রীর স্মৃতিতে সুরম্য স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছিলেন, তেমনি সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলেও মুঘল স্থাপত্যশিল্পের স্বর্ণযুগ সাধিত হয়েছিল। শাহজাহানের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি হলো আগ্রার 'তাজমহল', যা তিনি প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজের স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন, যা বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম।

    তাছাড়া তিনি দিল্লিতে লালকেল্লা, দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ এবং ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন। আগ্রা দুর্গে তিনি মোতি মসজিদ ও খাসমহল সংযোজন করেন। শাহজাহানের নির্মিত ইমারতগুলোতে মার্বেল পাথরের সূক্ষ্ম কাজ, অলংকরণ এবং নান্দনিক ভারসাম্য মুঘল স্থাপত্যকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়।

    অতএব, উদ্দীপকের জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর রুচিবোধ ও স্থাপত্য নির্মাণের সাথে সম্রাট শাহজাহানের রুচি, সৌন্দর্যবোধ ও অমর স্থাপত্যকীর্তি চমৎকারভাবে সংগতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন