পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কর্তব্য কি?
- খ)(2)
মানবাধিকার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
বক্সে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন অধিকার হবে? নির্ণয় কর। নৈতিক অধিকারের সাথে নির্ণেয় অধিকারের কোনো পার্থক্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিক কী কী দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে পারবে বলে তুমি মনে কর? বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজের সদস্য হিসেবে বা রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত যেসব কাজ ব্যক্তির করা উচিত বা করা আবশ্যক, তাকে কর্তব্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা অপরিহার্য, সেগুলোকে মানবাধিকার বলে।
মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক 'সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র' গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে মানবাধিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি ব্যক্তির স্বাধীনতা, সাম্য এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'আইনগত অধিকার' হবে।
নৈতিক অধিকারের সাথে নির্ণেয় অধিকার অর্থাৎ আইনগত অধিকারের স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে এদের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা হলো:
১. উৎপত্তির ভিত্তি: নৈতিক অধিকারের উৎস মানুষের নীতিবোধ, বিবেক ও সামাজিক রীতিনীতি। পক্ষান্তরে, আইনগত অধিকারের উৎস হলো রাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান।
২. রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রয়োগ: আইনগত অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত। এটি ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় এবং আদালতে মামলা করা যায়। অপরদিকে নৈতিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত নয় এবং তা ভঙ্গের জন্য কোনো আইনি শাস্তির বিধান নেই; শুধু সামাজিক তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হয়।
৩. সর্বজনীনতা ও পরিবর্তনশীলতা: আইনগত অধিকার রাষ্ট্রভেদে নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নৈতিক অধিকার সমাজের মূল্যবোধ ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল, যা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে ভিন্ন হতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধিকারগুলো হলো আইনগত অধিকার, যার মধ্যে রয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার। 'অধিকার ও কর্তব্য পরস্পরের পরিপূরক'—এই নীতির ভিত্তিতে উল্লিখিত অধিকারগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিক নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ: সামাজিক অধিকারের অংশ হিসেবে জীবনধারণ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার ভোগ করে নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করার দায়িত্ব পালন করে।
২. সুশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ: রাজনৈতিক অধিকারের অংশ হিসেবে ভোটদান ও মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়ে নাগরিক উপযুক্ত ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে।
৩. আইন মান্য করা: ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী অধিকার ভোগ করার মাধ্যমে নাগরিক দেশের আইন ও সংবিধান মেনে চলার আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করে।
৪. রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা: অর্থনৈতিক অধিকারের মাধ্যমে পেশা নির্বাচন, জীবিকা নির্বাহ ও সম্পত্তি ভোগের সুযোগ পেয়ে নাগরিক সততার সাথে নিয়মিত কর ও খাজনা প্রদান করে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
৫. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা: ধর্মীয় অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিক নিজে ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে পরমতসহিষ্ণুতা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে।
সুতরাং, অধিকারহীন নাগরিকের পক্ষে যথাযথভাবে কর্তব্য পালন করা অসম্ভব। উদ্দীপকে উল্লিখিত অধিকারগুলো যথাযথভাবে ভোগের মাধ্যমেই একজন নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি তার সমস্ত নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও