‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

হাশেম সবসময় নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে চলেন। তিনি দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন না। নিয়মিত রাজস্ব দেন না। তার পিতা আজিজ একদিন তাকে ডেকে বললেন, তোমার মানসিকতা পরিবর্তন কর। এসব কর্তব্য পালন না করলে তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। এছাড়াও সমাজে বসবাস করতে হলে তোমাকে অনেক কর্তব্য পালন করতে হবে।

  1. ক)

    আইন মানুষের কোন ধরানের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?

    (1)
  2. খ)

    'তথ্য অধিকার' বলতে কী বোঝায়?.

    (2)
  3. গ)

    হাশেম যে ধরনের কর্তব্যকে অবহেলা করেছেন, তা আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'তথ্য অধিকার' বলতে রাষ্ট্রের যেকোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নাগরিকদের তথ্য প্রাপ্তির আইনি অধিকারকে বোঝায়। এটি নিশ্চিত করে যে জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর যাবতীয় কার্যক্রম সম্পর্কে জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায় এবং দুর্নীতি হ্রাস পেয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে হাশেম যে ধরনের কর্তব্যকে অবহেলা করেছেন, তা হলো নাগরিকের 'আইনগত কর্তব্য' (Legal Duties)।

    আইনগত কর্তব্য হলো সেসব দায়িত্ব, যা রাষ্ট্র কর্তৃক আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং যার ব্যত্যয় ঘটলে রাষ্ট্র শাস্তি প্রদান করতে পারে। নাগরিকের প্রধান প্রধান আইনগত কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে:
    ১. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন: রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের অলঙ্ঘনীয় কর্তব্য।
    ২. আইন মান্য করা: সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা।
    ৩. নিয়মিত কর ও রাজস্ব প্রদান: রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যয়ভার বহনের জন্য আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর যথাসময়ে পরিশোধ করা।

    উদ্দীপকে দেখা যায় হাশেম রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেখান না এবং নিয়মিত রাজস্ব দেন না, যার কারণে তার পিতা তাকে সতর্ক করে শাস্তির কথা মনে করিয়ে দেন। সুতরাং হাশেম সুস্পষ্টভাবে তাঁর আইনগত কর্তব্যগুলোকে অবহেলা করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো: "এছাড়াও সমাজে বসবাস করতে হলে তোমাকে অনেক কর্তব্য পালন করতে হবে।" বাক্যটি মানুষের 'সামাজিক ও নৈতিক কর্তব্য'-এর প্রতি নির্দেশ করে।

    মানুষ সামাজিক জীব। কেবল আইনগত দায়িত্ব পালনই সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়। সমাজে শান্তিপূর্ণ ও অর্থবহ জীবনযাপনের জন্য মানুষকে বিভিন্ন সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হয়, যার পেছনে কোনো আইনি শাস্তির বাধ্যবাধকতা থাকে না, কিন্তু সামাজিক শান্তি ও ব্যক্তির মানবিক মর্যাদার স্বার্থে এগুলো অপরিহার্য।

    সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে পিতা-মাতার প্রতি যত্নশীল হওয়া, সন্তানকে সুশিক্ষিত করা, প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।

    অন্যদিকে নৈতিক কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে সত্যবাদিতা, সততা, দুর্বল ও আর্তের প্রতি সহানুভূতি এবং পরোপকার। ব্যক্তি যদি কেবল শাস্তি এড়াতে আইনগত কাজ করে কিন্তু সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা ভুলে যায়, তবে সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়।

    অতএব, সুস্থ ও সুন্দর সামাজিক জীবনের জন্য আইনের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করা আবশ্যক—এ কারণেই আজিজের উক্ত পরামর্শটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন