‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী দেশটির অপর অংশে বসবাসকারী জনগণের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করে শোষণ ও শাসন করতে থাকে। ফলে ঐ অংশের জনগণ সরকারের উপর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১ম আঞ্চলিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলটির ভরাডুবি ঘটে

  1. ক)

    পাকিস্তানের ১ম সংবিধান প্রণীত হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কীভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের সাথে তোমার পঠিত কোন নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলটির ভরাডুবির কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ' (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২২) জারি করেন। এই আদেশের অধীনে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত ১৬৯ জন এবং প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত ৩০০ জন—সর্বমোট ৪৬৯ জন প্রতিনিধির মধ্যে বেঁচে থাকা ও দেশপ্রেমিক ৪০৪ জন সদস্যকে নিয়ে ১৯৭২ সালের গণপরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদের মূল দায়িত্ব ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) মানুষের প্রতি চরম রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যমূলক এবং বিমাতাসুলভ আচরণ করতে থাকে। বাঙালিদের ন্যায্য অধিকার খর্ব করে শোষণ চালানো হয়, যার ফলে পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের ওপর চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। উদ্দীপকেও সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর বৈষম্য এবং পরবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির কথা বলা হয়েছে, যা ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের চরম ভরাডুবির কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতি: ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকার পূর্ব বাংলাকে একটি উপনিবেশ হিসেবে শাসন ও শোষণ করেছিল। তারা বাঙালিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।

    ২. ভাষা আন্দোলন দমন ও দমননীতি: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো এবং রক্তাক্ত দমননীতির কারণে মুসলিম লীগ জনগণের আস্থা পুরোপুরি হারায়।

    ৩. যুক্তফ্রন্টের গঠন ও ২১ দফা কর্মসূচি: মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো জনপ্রিয় নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফার মাধ্যমে পূর্ব বাংলার কৃষক, শ্রমিক ও মধ্যবিত্তের প্রাণের দাবিগুলো তুলে ধরে।

    ৪. অর্থনৈতিক সংকট ও খাদ্যভাব: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লবণের সংকট এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ মুসলিম লীগ সরকারের ওপর ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ছিল।

    এসব কারণে নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শোচনীয় ভরাডুবি নিশ্চিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন