ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
ইসলামপূর্ব যুগে আরবের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ লেগে থাকত। এতে বিভিন্ন গোত্র যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো তেমনি অনেক প্রাণহানি ঘটত। বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শত্রুতা লেগেই থাকত। হযরত মোহাম্মদ (স) তাদের এই সংঘর্ষ হতে বিরত রাখার জন্য তৈরি করলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামক একটি শান্তি সংঘ।
- ক)(1)
আন্তর্জাতিক আদালত কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
ভেটো ক্ষমতা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত হিলফুল ফুজুল এর সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে'- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক আদালত নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভেটো (Veto) একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ 'আমি মানি না' বা 'প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলাম'। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন) কোনো প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত এককভাবে বাতিল বা স্থগিত করে দেওয়ার যে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তাকে ভেটো ক্ষমতা বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'হিলফুল ফুজুল'-এর সাথে পাঠ্যপুস্তকের আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী সংস্থা 'জাতিসংঘ' (United Nations)-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আরবের গোত্রগুলোর পারস্পরিক রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে হযরত মুহাম্মদ (স.) 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তি সংঘ গড়ে তুলেছিলেন।
একইভাবে, বিংশ শতাব্দীতে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞ এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে ১৯৪৫ সালে বিশ্বের নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'জাতিসংঘ' গঠন করেন। উভয় উদ্যোগেরই মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ প্রতিরোধ, সংঘাতের অবসান এবং সমাজে বা বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাই উদ্দেশ্যের দিক থেকে হিলফুল ফুজুলের সাথে জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে"—মন্তব্যটি যথার্থ। এখানে প্রতিষ্ঠানটি বলতে জাতিসংঘকে নির্দেশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং মানবজাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার, ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর সংকটের মতো দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নিরসনে ব্যর্থতা এবং শক্তিশালী দেশগুলোর সামরিক আগ্রাসন সম্পূর্ণ রুখতে না পারার মতো বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা জাতিসংঘের রয়েছে।
তা সত্ত্বেও, জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পালনে ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। যেমন—
১. তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধ: পরাশক্তিগুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময়েও জাতিসংঘ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হতে দেয়নি।
২. শান্তিরক্ষা মিশন: ব্লু হেলমেট শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত প্রশমনে সংস্থাটি ভূমিকা পালন করছে।
৩. মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন: ইউনিসেফ (UNICEF), ইউএনএইচসিআর (UNHCR), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইত্যাদির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, শরণার্থী পুনর্বাসন, রোগব্যাধি দূরীকরণ এবং মানবাধিকার রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।অতএব বলা যায়, নানাবিধ রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্বে শান্তি, সংহতি ও মানবতার সুরক্ষায় জাতিসংঘ তার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও