ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. আলেক্স উত্তরাধিকারসূত্রে এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি লক্ষ করলেন অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণে সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তিনি নিজেকে 'ঈশ্বরের প্রতিনিধি' বলে ঘোষণা করেন, সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন, রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠোর নীতি অবলম্বন করেন। তার এ পদক্ষেপ সাম্রাজ্যের সংহতির জন্য সহায়ক হয়। তিনি দীর্ঘদিন দাপটের সাথে শাসনকার্য পরিচালনায় সক্ষম হন।

  1. ক)

    কার নামানুসারে কুতুব মিনার নামকরণ হয়?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষমতা গ্রহণের পর ইলতুৎমিশের সমস্যা চিহ্নিত করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে দাস বংশের কোন শাসকের কর্মকান্ডের নিয় রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত শাসকের পদক্ষেপ সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল মন্তব্য করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী (রহ.)-এর নামানুসারে কুতুব মিনারের নামকরণ করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতা গ্রহণের পর সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বহুবিধ মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হন। একদিকে তাজুদ্দিন ইয়ালদুজ, নাসিরুদ্দিন কুবাচা এবং বাংলার খলজি মালিকদের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা দিল্লি সালতানাতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। অন্যদিকে হিন্দু রাজারা দিল্লির আনুগত্য অস্বীকার করেন এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে মোঙ্গল সেনাপতি চেঙ্গিস খানের আক্রমণের চরম হুমকি সৃষ্টি হয়। এছাড়া আমীর-ওমরাহদের ষড়যন্ত্র দিল্লির অস্তিত্বকে সংকটাপন্ন করে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে দিল্লি সালতানাতের দাস বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক গিয়াসউদ্দিন বলবনের কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকের মি. আলেক্স ক্ষমতা গ্রহণের পর দেখেন সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। তিনি নিজেকে 'ঈশ্বরের প্রতিনিধি' ঘোষণা করেন, কঠোর রাজতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করেন এবং সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করে সাম্রাজ্যের সংহতি বজায় রাখেন।

    ইতিহাসে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ক্ষমতা গ্রহণের পর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, 'চল্লিশ চক্র' বা বন্দেগান-ই-চিহালগানের ষড়যন্ত্র এবং বহিরাগত মোঙ্গল আক্রমণের মুখে পড়েন। এ সংকট উত্তরণে তিনি রাজতন্ত্রের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে পারস্যের দরবারি রীতিনীতি চালু করেন এবং নিজেকে 'জিলুল্লাহ' (আল্লাহর ছায়া) ও 'নিয়াবত-ই-খুদায়ি' (ঈশ্বরের প্রতিনিধি) হিসেবে প্রচার করেন। তিনি রক্ত ও লৌহ নীতি (Blood and Iron Policy) গ্রহণ করে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে দমন করেন এবং শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন। অতএব, উদ্দীপকের আলেক্সের কার্যক্রমের সাথে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের কর্মকান্ডের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত পদক্ষেপসমূহ সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের এবং তা দিল্লি সালতানাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে ইলতুৎমিশের পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের দুর্বলতার সুযোগে চল্লিশ চক্রের উদ্ধত আচরণ ও সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সালতানাতের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল। মেওয়াটি দস্যুদের দৌরাত্ম্য, দোয়াবের হিন্দু প্রজাদের বিদ্রোহ এবং বাংলার তুঘরিল খানের স্বাধীনতা ঘোষণা দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসনকে নড়বড়ে করে দেয়।

    এ পরিস্থিতিতে বলবন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি কঠোর 'রক্ত ও লৌহ নীতি' অনুসরণ করে চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে খর্ব করেন, মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন এবং দোয়াব অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সিজদা ও পাইবস প্রথা চালু করেন। এছাড়াও মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সুরক্ষিত দুর্গ নির্মাণ ও প্রশিক্ষিত সেনাদল মোতায়েন করেন। তাঁর এসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ দিল্লি সালতানাতকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করে এর ভিত্তিকে দীর্ঘমেয়াদে সুদৃঢ় করেছিল। তাই বলা যায়, তাঁর পদক্ষেপগুলো সালতানাতের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন