সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রীমা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে এলাকার কিছু বখাটে তরুণ তার প্রতি অশোভন আচরণ করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সে. লেখাপড়া বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তার বান্ধবী ও সহপাঠীরা এলাকার মুরুব্বীদের সাথে যোগাযোগ - করে এবং, বখাটেদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বখাটেরা বাধ্য হয় এলাকা ছেড়ে পালাতে।
- ক)(1)
বার্ধক্য সমস্যা কী?
- খ)(2)
নিরক্ষরতার সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া নারীর সামাজিক নিরাপত্তা সম্ভব। নয়"- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বার্ধক্য সমস্যা হলো একজন ব্যক্তির প্রবীণ বয়সে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নানা প্রতিকূলতা ও অসহায়ত্বের সম্মুখীন হওয়ার পরিস্থিতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরক্ষরতার সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নিরক্ষর মানুষ সাধারণত অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও পরিবার পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে ভুগে থাকে। তারা জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুফল এবং ছোট পরিবারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না। অধিক সন্তানকে তারা বাড়তি আয়ের উৎস মনে করে এবং পুত্রসন্তানের প্রত্যাশায় একাধিক সন্তানের জন্ম দেয়। ফলে সমাজে নিরক্ষরতার হার বাড়লে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাটি হলো 'যৌন হয়রানি' বা 'ইভটিজিং'।
যৌন হয়রানি বা ইভটিজিং বলতে কোনো নারী বা কিশোরীকে রাস্তাঘাটে বা যেকোনো স্থানে উত্ত্যক্ত করা, অশোভন বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা, ইঙ্গিত দেওয়া কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনকে বোঝায়। এটি সমাজের একটি মারাত্মক ব্যাধি যা নারীর নিরাপত্তা ও অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রীমা স্কুলে যাতায়াতের সময় এলাকার কিছু বখাটে তরুণের দ্বারা অশোভন আচরণের শিকার হয়। এই মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সে তার লেখাপড়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি স্পষ্টতই ইভটিজিং বা যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার বাস্তব চিত্র। ফলে রীমার মাধ্যমে সমাজে নারীদের ওপর ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির সামাজিক সমস্যাটিই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া নারীর সামাজিক নিরাপত্তা সম্ভব নয়"— উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
নারীর নিরাপত্তা কেবল আইন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায় না, যতক্ষণ না সমাজে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। যৌন হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধগুলো প্রায়ই পারিবারিক ও সামাজিক অসচেতনতার সুযোগে বৃদ্ধি পায়। যদি স্থানীয় জনগণ এবং সমাজ সচেতন হয়ে সম্মিলিতভাবে অপরাধীদের প্রতিরোধ করে, তবেই অপরাধীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রীমা যখন বখাটেদের অত্যাচারের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করার মতো চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছিল, তখন তার সহপাঠী ও বান্ধবীরা চুপ করে না থেকে এলাকার মুরুব্বিদের সাথে যোগাযোগ করে। তারা সম্মিলিতভাবে বখাটেদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর ফলে বখাটেরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এবং রীমার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হয়।
অতএব, কেবল আইনের প্রয়োগ নয়, বরং স্থানীয়ভাবে মুরুব্বি, তরুণ সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সামাজিক প্রতিরোধই বখাটেদের নিবৃত্ত করতে পারে এবং নারীর নিরাপদ সমাজ গঠন নিশ্চিত করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও