ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব জহির তার পাওনাদার জনাব তরিকুলকে ৫ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। জনাব জহির চেকের ওপর রাম কোণে দুটি আড়াআড়ি দাগ টেনে ‘প্রাপকের হিসাব' লিখে দেন। জনাব তরিকুল তার পাওনাদার কবিরকে দুই মাসের মধ্যে ১ লক্ষ টাকা পরিশোধের ওয়াদাপত্র প্রেরণ করেন।
- ক)(1)
চেকের প্রত্যাখ্যান কী?
- খ)(2)
বিনিময় বিল অপেক্ষা চেকের ব্যবহার সার্বজনীন কেন? ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব জহির কর্তৃক ইস্যুকৃত চেকটি কোন ধরনের চেক? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তরিকুলের ওয়াদাপত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যথাযথ কারণবশত নির্দিষ্ট চেকের অর্থ প্রদানে ব্যাংকের অস্বীকৃতি জানানোকে চেকের প্রত্যাখ্যান (Dishonour of Cheque) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চেক নগদ অর্থের সবচেয়ে নিকটতম ও তরল বিকল্প হওয়ায় এবং এতে কোনো আইনগত স্বীকৃতির প্রয়োজন না থাকায় বিনিময় বিল অপেক্ষা চেকের ব্যবহার অধিক সার্বজনীন।
বিনিময় বিল একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তৈরি করা হয় এবং দেনাদার কর্তৃক স্বীকৃত (Accepted) না হওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর হয় না। তাছাড়া মেয়াদপূর্তির পূর্বে সাধারণ ক্ষেত্রে এর অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা যায় না। অন্যদিকে, চেক হলো ব্যাংকের ওপর একটি শর্তহীন তাৎক্ষণিক আদেশ, যা চাহিবামাত্র ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। চেকের অর্থ সহজে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে হস্তান্তর করা যায় বিধায় ব্যবসায়িক ও সাধারণ লেনদেনে মানুষ বিনিময় বিলের চেয়ে চেকের ওপর অধিক আস্থা রাখে ও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব জহির কর্তৃক ইস্যুকৃত চেকটি হলো একটি 'বিশেষ দাগকাটা চেক' (বা হিসাব প্রাপক দাগকাটা চেক)।
কোনো চেকের ওপরের বাম কোণে আড়াআড়িভাবে দুটি সমান্তরাল রেখা টেনে তার ভেতরে 'প্রাপকের হিসাব' (Account Payee Only) কথাটি লিখে দিলে তাকে বিশেষ ধরনের দাগকাটা চেক বলা হয়। এ ধরনের চেকের অর্থ ব্যাংক কাউন্টার থেকে সরাসরি নগদে উত্তোলন করা যায় না; প্রাপককে অবশ্যই নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে এর অর্থ আদায় করতে হয়। এতে অর্থের অপব্যবহার বা জালিয়াতির ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব জহির তার পাওনাদার জনাব তরিকুলকে ৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদানের সময় চেকের বাম কোণে দুটি আড়াআড়ি সমান্তরাল দাগ টেনে তার মাঝে 'প্রাপকের হিসাব' লিখে দেন। চেকের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে চেকটির অর্থ প্রাপক জনাব তরিকুলের ব্যাংক হিসাব ব্যতিরেকে অন্য কোনোভাবে তোলা সম্ভব নয়। সুতরাং, জনাব জহির কর্তৃক প্রদত্ত চেকটি একটি বিশেষ দাগকাটা বা হিসাব প্রাপক চেক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব তরিকুল কর্তৃক কবিরকে প্রেরিত ওয়াদাপত্রটি হলো একটি 'অঙ্গীকারপত্র' বা 'প্রমিজরি নোট' (Promissory Note)।
হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ অনুযায়ী, যে দলিল প্রস্তুতকারী নিজে স্বাক্ষর করে অপর কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বা তার আদেশানুসারে অন্য কোনো ব্যক্তিকে অথবা দলিলের বাহককে চাহিবামাত্র বা নির্দিষ্ট সময় পর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের শর্তহীন লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করে, তাকে অঙ্গীকারপত্র বা প্রমিজরি নোট বলে। এই দলিলে দুটি পক্ষ থাকে—প্রস্তুতকারক (দেনাদার) এবং প্রাপক (পাওনাদার)।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনাব তরিকুল তার পাওনাদার জনাব কবিরের নিকট দেনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে দুই মাসের মধ্যে ১ লক্ষ টাকা পরিশোধের একটি লিখিত অঙ্গীকার বা ওয়াদাপত্র প্রেরণ করেন। এখানে জনাব তরিকুল হলেন দেনাদার বা প্রস্তুতকারক, যিনি নির্দিষ্ট সময় (দুই মাস) পর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (১ লক্ষ টাকা) শর্তহীনভাবে পাওনাদার কবিরকে পরিশোধ করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
অঙ্গীকারপত্রের মূল শর্তসমূহ যেমন—লিখিত হওয়া, প্রস্তুতকারকের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, নির্দিষ্ট মেয়াদ ও নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ইত্যাদি এই ওয়াদাপত্রটিতে সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত তরিকুলের ওয়াদাপত্রটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের আওতায় একটি বৈধ ও যথার্থ অঙ্গীকারপত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও