পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন কে
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন কাকে বলে?
- গ)(3)
জনাব 'ক' এর সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মিল রয়েছে? উদ্দীপকের আলোকে তার অবদান বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
ভারতবর্ষে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে উদ্দীপকের 'খ' এ ইজিাতকৃত নেতৃত্বের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৬৩ সালে নওয়াব আবদুল লতিফ 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ইসলামি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনকে 'ফরায়েজি আন্দোলন' বলা হয়।
'ফরায়েজি' শব্দটি এসেছে আরবি 'ফরজ' শব্দ থেকে, যার অর্থ অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। ইসলাম ধর্মের মূল বিধিবিধান ও অবশ্য পালনীয় কর্তব্যগুলো দৃঢ়ভাবে অনুসরণের মাধ্যমে মুসলমানদের অনৈসলামিক কুসংস্কার থেকে মুক্ত করা এবং সমাজে শোষিত মুসলিম কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হাজী শরীয়তুল্লাহ এ আন্দোলনের সূচনা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মীর নিসার আলী তিতুমীরের মিল রয়েছে।
তিতুমীর ছিলেন উনিশ শতকের সূচনালগ্নে বাংলার একজন নির্ভীক স্বাধীনতা সংগ্রামী, যিনি ব্রিটিশ শাসন ও স্থানীয় অত্যাচারী হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ গড়ে তোলেন। উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, জনাব 'ক' ছিলেন সমাজ সংস্কারক, ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী এবং তিনি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন—এসব বৈশিষ্ট্য সরাসরি তিতুমীরের জীবনের সাথে মিলে যায়।
তিতুমীর মুসলিম সমাজে প্রচলিত শিরক ও বিদআত দূর করে একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে নীলকর এবং হিন্দু জমিদারদের বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করেন। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট নীতির প্রতিবাদে তিনি বারাসাতের নারিকেলবাড়িয়ায় একটি দুর্ভেদ্য 'বাঁশের কেল্লা' নির্মাণ করেন এবং সেখান থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৮৩১ সালে ব্রিটিশ কামানের বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লায় যুদ্ধ করে তিনি বীরত্বের সাথে শাহাদাতবরণ করেন। এভাবে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেম ও কৃষক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ হিসেবে অনন্য অবদান রাখেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'খ' চিত্রে ইঙ্গিতকৃত নেতৃত্ব হলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ (সি. আর. দাশ)। ভারতবর্ষে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বিকাশে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী।
চিত্তরঞ্জন দাশ উপলব্ধি করেছিলেন যে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সফলতা আনতে হলে বৃহত্তর দুই সম্প্রদায়—হিন্দু ও মুসলমানের পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। তিনি কংগ্রেসের একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে স্বরাজ্য দল গঠন করেন এবং ভারতীয় রাজনীতিতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালান।
অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ১৯২৩ সালে তিনি ঐতিহাসিক 'বেঙ্গল প্যাক্ট' বা 'বাংলা চুক্তি' সম্পাদন করেন। এ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি চাকরি, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এবং আইনসভায় জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলমানদের ন্যায্য হিস্যা প্রদান করা। তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মসজিদের সামনে বাজনা বাজানো নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নেন এবং গো-কোরবানি নিয়ে বিরোধ অবসানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রস্তাব দেন।
চিত্তরঞ্জন দাশের এই পদক্ষেপ মুসলমানদের মধ্যে কংগ্রেস ও যৌথ আন্দোলনের প্রতি গভীর আস্থার সৃষ্টি করে। যদিও সংকীর্ণমনা নেতাদের কারণে চুক্তিটি পরে ভেস্তে যায়, তবুও তাঁর এই উদ্যোগ ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও